কুমিল্লার লালমাইয়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় যুব দিবসের র্যালিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার সামনের সারিতে অংশ নেওয়া নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববারের ওই কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ঠিক পাশেই দেখা যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবু তাহের রনিকে।
র্যালিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতার দাবি, যথাযথ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরই তিনি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
গতকাল রোববার কুমিল্লার লালমাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, ইউএনও সুব্রত বিশ্বাস দাস, ওসি মিজানুর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। র্যালির সামনের সারিতে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আবু তাহের রনি।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মার্চ একটি মামলায় আবু তাহের রনিকে গ্রেপ্তার করেছিল লালমাই থানা পুলিশ। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। রনি বলেন, ‘আমন্ত্রণ পেয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। অতীতের মামলা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, রনি উপজেলার একটি যুব সংগঠনের সভাপতি। এ কারণে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁর দলীয় পদ কিংবা মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানা ছিল না।
লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, যুব দিবসের অনুষ্ঠানটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন। সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য তাঁকে ডেকে র্যালিতে নিয়ে যান। তখন তাঁর ডানে-বাঁয়ে কে ছিলেন, তা খেয়াল করার সুযোগ হয়নি। তিনি তিন মাস আগে এ থানায় যোগ দিয়েছেন।
আজ সোমবার রাতে ইউএনও সুব্রত বিশ্বাস দাস সমকালকে বলেন, অনুষ্ঠানের দিন রাতেই তিনি বিষয়টি জেনেছেন। রনি একটি এনজিও পরিচালনা করলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পদে থাকায় তাঁকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় থেকে আমন্ত্রণ জানানো ঠিক হয়নি। বিষয়টি বিব্রতকর। তাঁর জানা থাকলে এমনটি হতো না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।







