হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা জামিন স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি করে আদালত ‘নো অর্ডার’ দেওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আখতারুজ্জামানের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তার মক্কেলের কারামুক্তিতে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
এর আগে গত রোববার (১ নভেম্বর) এ মামলায় রুলসহ আখতারুজ্জামানকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে তার আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।
হাইকোর্টের দেওয়া সেই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ওঠে। তারই ধারাবাহিকতায় এটি শুনানি হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। অন্যদিকে, আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
এর একদিন আগে, গত ১ অক্টোবর রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন তিনি।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়। তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়ী হতে পারেননি।
একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন আখতারুজ্জামান। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে সমসাময়িক নানা ইস্যুতে টেলিভিশনের টক শো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান।







