ময়মনসিংহ নগরীর মাসকান্দা এলাকায় একটি ছাত্রাবাসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মাসকান্দা এলাকার একটি ছাত্রাবাসে দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মেসে অবস্থান করে পড়াশোনা করে আসছেন। ঘটনার দিন তুচ্ছ কোনো বিষয় বা পূর্ববিরোধের জেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামিল ও তার অনুসারী কিছু লোকজন হঠাৎ করে ওই ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ভেতরে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয় এবং কিল-ঘুষি ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের বেপরোয়া মারধরে পলিটেকনিকের দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তাদের আর্তনাদে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে তাদের দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ছাত্রাবাসে ঢুকে এমন সন্ত্রাসী হামলা ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় পুরো মাসকান্দা এলাকা জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে হামলাকারী নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শামিল ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকলীগ কিভাবে দিনে দুপুরে এভাবে সাধারণ ছাত্রদের উপর জঘন্য হামলা চালায় এ নিয়ে জনসাধারণের মনে প্রশ্ন জেগেছে।আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ছাত্র ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনার অভিযান চালানো হচ্ছে।







