শাহবাগ থানায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ঢাবি সাংবাদিক সমিতির মানববন্ধন

Post Image

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে সরব হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

শনিবার (আজ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সাংবাদিক সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে মামলা গ্রহণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তোলা হয়।

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গণমাধ্যম যখন সত্যের পরিবর্তে শক্তির প্রচার করে, তখন সেই রাষ্ট্র ফ্যাসিবাদের দিকে পা বাড়ায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন নির্যাতিতের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, তখন সেই রাষ্ট্রটি চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদের রূপ ধারণ করে।’ তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, বিচার না হলে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘হামলার বিচারের জন্য সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধিরা গতকাল শাহবাগ থানায় গিয়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও ওসির দেখা মেলেনি। অপরাধ সংঘটনের স্থান যখন খোদ থানা, তখন বিচার পেতে এত দেরি হওয়া কাম্য নয়।’

দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি মাহবুব রনি বলেন, ‘থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে হামলা হলেও এখন পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত হয়নি। অনতিবিলম্বে মামলা গ্রহণ করে হামলাকারী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।’

সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, গত আট বছরে এমন ঘটনা তিনি দেখেননি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাংবাদিকরা সব সময় সহযোগিতা করলেও আজ তাদের ওপরই হামলা হয়েছে। তিনি জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, প্রশাসন ও পুলিশ বিচার প্রক্রিয়ায় তালবাহানা করছে। দ্রুত দাবি আদায় না হলে দেশের সব ক্যাম্পাস ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।

সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মানজুর হোসাইন মাহি এবং সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হামলা সরাসরি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও স্পষ্ট ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বিডিনিউজ২৪-এর মাসুম বিল্লাহ, সিজিটিএন-এর হোসাইন তারেক, ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির, দ্য ডেইলি স্টারের সিরাজুল ইসলাম রুবেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট, যুবদল নেতা বহিষ্কার

জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের পক্ষেই ছিলেন পলক: আইনজীবী

ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি ছাড়লেন ছাত্রদল নেতা

মাদরাসাকে যারা অবজ্ঞা করবেন, দুনিয়াতেও তারা অসম্মানিত হবেন: জামায়াত আমির

‘এমপি আমির হামজা রাজনীতিতে এখন পাক্কা খেলোয়াড়’

ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে: সাদিক কায়েম

ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে পুলিশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন আইজিপি

জামায়াত-শিবিরের বিপদে উদ্ধারকারী জাহাজ হয়ে রক্ষা করতেই এনসিপির জন্ম: রাশেদ খাঁন

সর্বাধিক পঠিত

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের ইফতার

প্রজ্ঞাপনের পরেও প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘মাননীয়’, জুলকারনাইন লিখলেন— একটু বিব্রতকর না?

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

এনসিপির সব পদ থেকে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ

ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে হেফাজত নেতা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী বহিষ্কার

আসাদগেটে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল

হেফাজতের নেতৃত্বে ৭ দলের ঐক্য সম্ভব নয়: মনির হোসাইন কাসেমী

সনাতন ধর্মের প্রতিবন্ধী তিন ভাইয়ের দায়িত্ব নিলেন জামায়াত নেতা

খুলনায় ধান কাটা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১