বিএনপি বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, পদত্যাগের আগের রাতে আসিফ মাহমুদ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। মাহফুজ আলমও ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে দুজনই বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন।
তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টা বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করুক, তা দলটি চায়নি। আসিফ মাহমুদের প্রতি বিএনপি আগ্রহ না দেখানোয় তিনি বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগ দেন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। অন্যদিকে, বিএনপিতে সুযোগ না পেয়ে মাহফুজ আলম নৈতিকতা ধরে রেখেছেন উল্লেখ করে তাঁর সততার প্রশংসা করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার কারণে নাহিদ ইসলামের পর এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের অবস্থান থাকার কথা ছিল। তবে অতীতের বিতর্ক ও এনসিপিতে যোগদানের বিষয়ে তাঁর দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে বর্তমানে তিনি দলটির ‘সুপার সিক্সের’ সর্বশেষ নেতা বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা। এ প্রসঙ্গে তিনি আসিফ মাহমুদকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যও করেন।
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আবার বেশি আসন সমঝোতা করার জন্য এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতা জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকত। কিন্তু বিএনপি এনসিপিকে ৪টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। আর এ কারণেই বেশি আসন ও নির্বাচনি খরচ পেয়ে জামায়াত জোটে গেছে এনসিপি। অর্থাৎ এনসিপির নতুন রাজনীতি হলো সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি। এখন হয়তো আলাদা কোনো সুবিধা পেতে কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এনসিপি।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘কিন্তু তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ ব্যর্থ কর্মসূচি। বিএনপি সরকারের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেও তার কিছু করার সক্ষমতা রাখে না এনসিপি। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সুযোগে নেতা বনে যাননি। দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণেই তার আজকের এই পজিশন।’
তিনি লিখেছেন, ‘জামায়াত ও এনসিপির ৯০ জন এমপির মেধা, যোগ্যতা বনাম এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এটা তো কারও না বোঝার কথা না যে, তাদের যন্ত্রণাটা ঠিক এখানেই! তারা মনে করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করে বিএনপিকে চাপে রাখতে পারলে বিরিয়ানি আদায় করা যাবে! কিন্তু বিএনপি বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি করে না। বিএনপি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে। সুতরাং বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত-এনসিপি বিরিয়ানির ভাগ চাইলেও পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।







