হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের দাবি, ওই এলাকায় তেলবাহী জাহাজে নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটেছে। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধ না করলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে না।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ৯৫ শতাংশ জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। তবে ইরান চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইরানের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ রাখতে মার্কিন নৌ অবরোধও চলছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে সমুদ্রের নিচে পেতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে একটি বড় তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার খবর দিয়েছিল ইরান। তবে ঘটনাগুলো একই জাহাজের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানা যায়নি।
ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে তেহরান। ইরানের অবকাঠামোয় হামলা হলে হরমুজ প্রণালির নিচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেবলও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নাবিকদের জীবন বিপন্ন করছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও জ্বালানি পরিবহন যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরেছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে আলোচনার আগে ওয়াশিংটনকে সামরিক হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ বন্ধ করতে হবে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরও বলেন, আলোচনায় ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালাতে পারে বলে ইরানের আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা করাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে। দেশটির আগের উদ্যোগে জুনে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু পরে আবার সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ থেমে যায়।
সূত্র: শাফাক নিউজ







