উঠল দীর্ঘ ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা। পাকিস্তানের (Pakistan) লাহোরে ফের ফিরে এল বসন্ত উৎসব। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের এই উৎসব, আর তার সঙ্গেই ঘুড়িতে ছেয়ে গিয়েছে শহরের আকাশ। শীত বিদায় নেওয়ার আগেই বসন্তের রঙে মেতে উঠেছে প্রতিবেশী দেশ। এক সময় যে উৎসবে নাসিরুদ্দিন শাহ, আমির খান, বিনোদ খান্না বা রেখার মতো বলিউড তারকারাও যোগ দিতেন, সেই লাহোরের ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব অবশেষে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল।
২০০৭ সালে হঠাৎ করেই এই উৎসবের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল লাহোর ও পাঞ্জাব প্রদেশের প্রশাসন। উৎসবের সময় ব্যবহৃত চিনা মাঞ্জার কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু, গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনা এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারানোর মতো মর্মান্তিক ঘটনাই প্রশাসনকে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। সেই সঙ্গে কিছু এলাকায় গুলিবর্ষণ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিও উৎসব বন্ধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর টানা প্রায় দুই দশক লাহোরে ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ ছিল।
বসন্ত উৎসব ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু কৃষি সংস্কৃতি ও সুফি ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। লাহোরে এক সময় বসন্ত মানেই ছিল রং, গান, আনন্দ আর ছাদে ছাদে ঘুড়ির লড়াই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন প্রজন্ম এই উৎসবকে চিনেছে শুধু গল্প আর পুরনো ছবির মাধ্যমে। এ বছর সেই আক্ষেপ ঘুচেছে। ছাদ, বারান্দা ও উঠোনে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। হাসি-আড্ডা আর সমবেত ‘ভোকাট্টা’ ধ্বনিতে ফের মুখর শহর।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজ শরিফ এক্স মাধ্যমে বসন্ত উৎসব ফিরে আসাকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, বহু বছর পর লাহোরের আকাশে ঘুড়ি ফিরেছে, যা সংস্কৃতি, রং এবং সামাজিক সম্প্রীতির উদযাপন। একই সঙ্গে তিনি সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে উৎসব পালনের বার্তা দিয়েছেন।
তবে আনন্দের মাঝেই সতর্কতার ছায়া রয়েছে। উৎসব শুরুর পরই এক যুবক বিদ্যুতের তার থেকে ঘুড়ি নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। এই ঘটনার পর প্রশাসন আরও কড়া হয়েছে। চিনা মাঞ্জা নিষিদ্ধ, নির্দিষ্ট উচ্চতার বেশি ঘুড়ি ওড়ানো বারণ এবং নিরাপত্তা বিধি না মানায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর বসন্ত উৎসব ফিরলেও, লাহোরে এখন আনন্দের পাশাপাশি সতর্কতাই প্রশাসনের প্রধান বার্তা।







