পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। পোস্টে এ সিদ্ধান্তকে ‘হিন্দুত্ববাদী আচরণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান ডাকসুর এই নেতা।
ফেসবুক পোস্টে জুবায়ের লেখেন,“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু জ'বাই নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। যেন গরু জ'বাই না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন হিন্দুত্ববাদী আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। জগন্নাথের স্টুডেন্টরা দেখলাম প্রতিবাদে গরু জ'বাই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংহতি রইলো। গরুভোজের উৎসব হোক।”
এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি জারির পর পরই সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ কর্মসূচি’ পালনের ডাক দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থীরা। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জকসুর এজিএস মাসুদ রানাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ছাত্রনেতারা এ বিষয়ে গুগল ফরমের লিংক শেয়ার করে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে একটি বিভাগের নৈশভোজের সময় গরুর মাংস রান্না করাকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সাথে তৈরি হওয়া এক বিতর্কের জের ধরেই প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শিক্ষার্থীদের দাবি, পরিবেশের অজুহাতে মূলত একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রাধান্য দিতেই ঢালাওভাবে এই সিদ্ধান্ত চাপানো হয়েছে।







