জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ধীরে ধীরে বিশ্বনেতায় পরিণত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ডা. হাফিজুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, শফিকুর রহমান এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, মুসলিম বিশ্বেরও একজন নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি সফরটিকে সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, শফিকুর রহমানের তুরস্ক সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সেখানে থাকা ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সময়ের স্বল্পতার কারণে তিনি অল্পসংখ্যক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারলেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ সম্পন্ন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনীতি, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে শফিকুর রহমানের গভীর জানাশোনা তাঁকে প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করছে। এসব বিষয়ে তাঁর আগ্রহ, পড়াশোনা এবং দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কারণে এই দক্ষতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অতীতে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমেরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের পরিচিতি ও জানাশোনা ছিল বলে উল্লেখ করেন ডা. হাফিজুর রহমান। পাশাপাশি জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের একসময় যুবনেতাদের মধ্যে প্রভাব ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমানের এবারের তুরস্ক সফরকে আগের সফরগুলোর তুলনায় আলাদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে চার-পাঁচবার তুরস্কে গেলেও প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে এবারই প্রথম দেশটি সফর করেন জামায়াত আমির।
ডা. হাফিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্কের সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব, নির্বাচন, নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান, একাধিক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে শফিকুর রহমান সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিভিন্ন খাতে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন জামায়াত আমির। আন্তর্জাতিক ইস্যুর মধ্যে ‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে তুরস্কের অবস্থান জানতে চাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের মতামত ও পরামর্শও তুলে ধরেছেন শফিকুর রহমান।
পোস্টে ডা. হাফিজুর রহমান বলেন, মাত্র দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে শফিকুর রহমানের কর্মকাণ্ডের একটি অংশই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। তাঁর মতে, সফরের ৪৮ থেকে ৫০ ঘণ্টায় সম্পন্ন হওয়া কাজের বড় একটি অংশ জনসমক্ষে আসেনি।
তিনি সফরটিকে সফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শফিকুর রহমানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাঁর বক্তব্য শুনতে এবং তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আগ্রহী। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।







