ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা জেমিনি ব্যবহার করে উত্তর লেখার দায়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের সদস্য ফাতহুন কারিব চৌধুরীকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাসহ পরবর্তী আরও দুই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলসহ মোট দুই বছরের শাস্তির মুখে পড়েছেন তিনি।
কারিব চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের চতুর্থ সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এ শাস্তি পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি পরীক্ষা চলাকালে কারিব চৌধুরীকে দুই পায়ের মাঝখানে মোবাইল ফোন রেখে ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে গুগলের এআই সেবা জেমিনিতে করা একটি সার্চের তথ্য পাওয়া যায়। সেখানে ওই পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নের উত্তর খোজা হয়েছিল।
পরীক্ষা শুরুর পর সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে তার উত্তরপত্র জব্দ করা হয়। তখন উত্তরপত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরের কিছু অংশ লেখা ছিল। জেমিনিতে ওই প্রশ্ন লিখে পাওয়া উত্তরের সঙ্গে কারিব চৌধুরীর উত্তরপত্রে লেখা দুই লাইনের হুবহু মিল পাওয়া যায়। পরে তার উত্তরপত্র ও সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় উত্থাপিত হলে গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ছাত্রদল নেতা কারিব চৌধুরী ‘পরীক্ষা +২’ মেয়াদে শাস্তি পেয়েছেন। ফলে তিনি যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করেছেন, সেটি বাতিল হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী আরও দুটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলসহ মোট দুই বছরের শাস্তির মুখে পড়েছেন তিনি।
কারিবের এক সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরীক্ষার হলে কারিব মোবাইল ফোনে এআই ব্যবহার করে লিখছিলেন। একপর্যায়ে শিক্ষক বিষয়টি ধরে ফেলেন। পরে তার উত্তরপত্রে লাল কালি দিয়ে বিষয়টি লিখে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ‘পরীক্ষা +১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’—এই তিন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ‘পরীক্ষা +১’ বলতে যে পরীক্ষায় অপরাধ করা হয়েছে, সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী আরও একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। একইভাবে ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ বলতে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী যথাক্রমে দুটি ও তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বোঝানো হয়েছে।







