জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হলে, সমালোচনার মুখে পেজ থেকে পোস্টটি মুছে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বিজ্ঞান ভবনসংলগ্ন মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য, অতিথিদের বক্তব্য ও আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় প্রকাশ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে। সেখানে ছাত্রদল ও অতিথিদের ৩২টি ছবিসংবলিত একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচির প্রচার করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যায়িত করে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংসদের নেতারা।
জকসু (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ) জিএস ও জবি শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ছাত্রদলের নবীনবরণ প্রোগ্রামটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এখানে শিক্ষামন্ত্রী এসেছিলেন। আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কাজের সঙ্গে জড়িত প্রোগ্রাম নয়, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎও নয়। আমরা দেখেছি বিগত সময়গুলো থেকেও ঠিক একই কালচারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে আসছে। ঠিক তারই নামান্তর এবং ধারাবাহিকতায় তারা এটা করছে। বিগত সময়গুলোতে, চার আগস্টে যখন ছাত্রদলের হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পেজে ছাত্রদলের প্রেস রিলিজ যেই ধাঁচের যায়, ঠিক সেই ধাঁচের এখানেই শেয়ার করা হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় কাজ এবং গর্হিত কাজ। আজকেই প্রথম না, এটা দীর্ঘদিন ধরে করে আসার একটা দীর্ঘ অভ্যাসের বহিঃপ্রকাশ।
একই ধরনের প্রোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের বেলায় ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে প্রচার করা হয় না বলেও দাবি করেন জিএস আরিফ।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, ছাত্র সংগঠন প্রোগ্রাম করতেই পারে। সেটা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ইনভাইট করলে বিশ্ববিদ্যালয় যাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যদি সেই প্রোগ্রামে থাকে, তাহলে সেই প্রোগ্রামের তার একটি ছবি বা প্রোগ্রামটা কি বিষয়— এটা নিয়ে ছবি পোস্ট করতে পারে। কিন্তু আমরা আজকে যেটা দেখলাম যে প্রায় ৩২টা ছবি ওইখানে আপলোড করা হয়েছে এবং এর উপরে যে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে যে–কোনো প্রোগ্রাম কখন, এটা সকাল থেকে কয়টা থেকে শুরু হয়েছে এবং কনসার্ট হবে কখন। একটি রাজনৈতিক দলের পেজ থেকে যেভাবে নির্দেশিকা আসে, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পেজটাকে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা্নিএ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জবি ছাত্রদলের পেজ মনে করেছিলাম। পরে দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পেজ। তারেক রহমান নিজেই কনফিউজড হবেন কাকে তিনি তেলবাজিতে এগিয়ে রাখবেন? ঢাবিকে নাকি জবিকে।
এ বিষয়ে জবির জনসংযোগ তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় সংগঠনের কর্মসূচি এভাবে প্রচার করা হয় না। ছাত্রদলের যে অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেজে এসেছে, সেটি দলীয় কর্মসূচি হিসেবে না এসে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নিউজ ভ্যালু অনুযায়ী প্রকাশ করা যেত। বিষয়টি কীভাবে এসেছে, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এ ঘটনাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভুল বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড মো. রইছ উদ্দীন। এ ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। উপাচার্য বলেন, আমি অফিসারকে বলছি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য কোট করে পোস্ট দিতে। কিন্তু তারা ভুল করে ছাত্রদলের বিষয়টা হেডলাইনে এনেছে। অফিসার স্বীকার করেছে এটি একটি ভুল ছিলো।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল আয়োজিত নবীনবরণ ও কনসার্ট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এ সময় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও জবি শাখার সাবেক নেতারা।







