কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি কক্ষ দখলে নিয়ে একাই থাকার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর বিরুদ্ধে। তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে প্রায় এক দশক আগে। হল প্রশাসন বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ইংরেজি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষ হলেও তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সর্বশেষ কমিটিতে তিনি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। গত ১৮ জুন নতুন কমিটিতে তাকে আহ্বায়ক করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে বিজয়-২৪ হলের ২১৬ নম্বর কক্ষে ওঠেন শুভ। ওই কক্ষে আগে থাকা তিন শিক্ষার্থী পরে কক্ষটি ছেড়ে অন্য কক্ষে চলে যান। বর্তমানে তিনি একাই কক্ষটি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ।
হলসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম দিকে গভীর রাতে হলে প্রবেশ করলেও পরবর্তী সময়ে দিনের বেলাতেও তাকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের নজর এড়াতে তিনি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকিয়ে রাখতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কক্ষের বাইরে জুতা না রেখে সেগুলো ভেতরে রাখতেন বলে জানা গেছে। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ফুটেজও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘শুভ আমাকে হলে ওঠার বিষয়ে কোনো কিছু জানায়নি। আমি হলের প্রভোস্ট হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে সব সময় খোঁজখবর নিই। বিষয়টি জানার পর তাদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়েছি। পরে প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যকে জানিয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে কোনো উত্তর দেননি।’
তবে হলে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান শুভ। তিনি বলেন, ‘আমি হলে উঠিনি বা থাকছি না। বিজয়-২৪ হলের পাশের একটি ফ্ল্যাটে আমার অ্যাপার্টমেন্ট আছে। গত দুই বছর ধরে আমি সেখানেই থাকি। কয়েক দিন আগে অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় বাসার দারোয়ানকে খুঁজে না পাওয়ায় এক রাত হলে ছিলাম। যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই বলছে।’
জানা গেছে, ২১৬ নম্বর কক্ষে আগে থাকতেন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান আরিফ, একই শিক্ষাবর্ষের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আশরাফ মুন্না এবং মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত। রিফাতের সিটে কিছুদিন তার ভাই, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসীর বিল্লাহ থাকতেন। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ফ্লোরিং করেও সেখানে থাকতেন।
শুভকে কক্ষটি দখলে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাতের বিরুদ্ধেও। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘শুভ ভাই হলে ওঠেননি। উনি দুই-তিন দিন হলে ছিলেন বিভিন্ন কারণে। বিজয়-২৪ হলের দক্ষিণে একটি বিল্ডিংয়ে তিনি থাকেন।’
শুভর হলে অবস্থানের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. আবুল বাশার বলেন, ‘হলে কে থাকেন বা কে উঠেছেন, সে বিষয়ে আমি জানি না। তবে অবৈধভাবে যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা হলে থাকতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে, সেটিই চূড়ান্ত।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘প্রত্যেকটি হলে থাকার নীতিমালা আছে। সেই অনুযায়ী সিট বণ্টন করবেন হল প্রভোস্ট। যদি কোনো শিক্ষার্থী নীতি না মানেন, হল প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেন।







