ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে প্রকাশিত দুটি স্মারক সাহিত্যগ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’ ও ‘হাতেখড়ি’ -এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
‘বহুমাত্রিক’ গ্রন্থে চাকমা, ম্রো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন অবাঙালি মাতৃভাষার সাহিত্য স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে, ডাকসুর লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে ‘হাতেখড়ি’। দুটি গ্রন্থই সম্পাদনা করেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। এ সময় ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান,কোষাধ্যক্ষ ড. মোশাররফ হোসেন মুন্নাসহ হল সংসদ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ডাকসু যে সকল শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করে, দুটি গ্রন্থের প্রকাশনা তার একটি দৃষ্টান্ত। চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন মাতৃভাষার সাহিত্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই ‘বহুমাত্রিক’ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, লেখালেখি ও নাট্য কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহ ও বাছাই করে ‘হাতেখড়ি’ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করতে গ্রন্থটি ভূমিকা রাখবে।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় সাহিত্যচর্চাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,চাকমা, ম্রো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ভাষার ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা নিয়ে ‘বহুমাত্রিক’ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ভাষার অনেক শিক্ষার্থী নিজের মাতৃভাষার লিখিত রূপ জানেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘হাতেখড়ি’ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এক মাসব্যাপী লেখালেখি কর্মশালা আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের লেখালেখির বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহ ও বাছাই করে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে। নবীন লেখকদের গড়ে তোলার লক্ষ্যেই গ্রন্থটির নাম ‘হাতেখড়ি’ রাখা হয়েছে।
গ্রন্থ দুটির সহসম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন আসিফ আব্দুল্লাহ, ফাতিমা তাসনিম জুমা, মাহিয়া বিনতে মামুন, রিয়াদুল ইসলাম যুবা, রিজওয়ান য্যুবরান মানসূরী, নুসরাত জাহান, সায়মুম ফেরদৌস, আসফাকউল্লাহ আসিফ ও সুহাইল মাহদীন।
‘হাতেখড়ি’ গ্রন্থের ব্যবস্থাপনা ও কর্মশালার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সাহিত্যকেন্দ্রের সভাপতি কবি আফসার নিজাম এবং নটনাট্যের সভাপতি ও নাট্য নির্দেশক হুসনে মোবারক।







