রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবকে বহিষ্কারের পর সংগঠনটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
নিজের বহিষ্কারকে ‘হ্যাটট্রিক ট্রফি’ হিসেবে উল্লেখ করে ছাত্রদলের নেতৃত্বের সমালোচনা করার পাশাপাশি সংগঠনটির বর্তমান অবস্থান নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন হাবিব।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বহিষ্কারের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আহসান হাবিব লেখেন, বহিষ্কারের হ্যাটট্রিক ট্রফি দিলেন? শিবিরের ক্যান্টনমেন্টে আজ থেকে রাবি ছাত্রদল হিজরা ইউনিটে পরিণত হলো। গুপ্তদের মিডিয়া ট্রায়ালের চাপ সামলাতে না পারলে ছাত্রদল বিলুপ্ত করে দেন।
একই স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, সুশীল রাজনীতি দিয়ে কোনদিন রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না। কোন সাহসী ছেলে-মেয়ে আর এই সংগঠন করতে আসবেনা। আরো ১০-১ জনের বহিষ্কারের প্রেস রিলিজ রেডি করে রাখেন। রাবি ছাত্রদল এখন ল্যাংটা হবে। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারবেনা কেউ?
এর আগে সোমবার ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সহসভাপতি পদমর্যাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে আহসান হাবিবসহ সংগঠনটির তিন নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন।
এদিকে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অবশ্য হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
হামলার ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসেও সাংবাদিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন আহসান হাবিব। সেখানে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশকে ‘জামায়াতি সাংবাদিক’ ও ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শহীদ জিয়াউর রহমান হলের জিএস আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া সাংবাদিকদের ‘প্রতিহত’ করার দাবি করেন তিনি।
ওই স্ট্যাটাসে আহসান হাবিব আরও লেখেন, মিডিয়ার চাপে (৯০% জামায়াতি সাংবাদিক) যদি প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তিকারী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জঙ্গি সালাউদ্দিন আম্মারের চ্যালা, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কারচুপির রাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত জিএস আরিফুলকে ধরতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানাদের প্রতিহত করার কারণে যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়মূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে বুঝব, এই দলে ত্যাগী, নির্যাতিত, সাহসী ও যোগ্যদের কোনো ঠাঁই নেই এবং ছাত্রদল তথা বিএনপিতে বটেদের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। যোগ্য ও ত্যাগীদের দরকার নেই।







