জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ উপলক্ষে প্রদর্শিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্ল্যাকার্ড দ্বিতীয় দিনে এসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ কর্মসূচির শুরু থেকেই প্ল্যাকার্ডটি প্রদর্শিত হলেও সোমবার (২৯ জুন) দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে এটি নতুন করে সবার নজর কেড়েছে।
প্ল্যাকার্ডটিতে একটি অ্যানিমেটেড শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে লেখা রয়েছে, “ঠিকমতো লেখাপড়া করো তো? করতে হবে, নকল আর হবে না!”। পাশাপাশি “এসো বানান শিখি” শিরোনামে একটি অংশে সঠিক ও ভুল বানানের উদাহরণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আলোচনায় ছাত্রশিবিরকে নিয়ে “গুপ্ত” শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্ল্যাকার্ডে বানান সচেতনতার বিষয়টি সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্ল্যাকার্ডটি কেবল সাজসজ্জার অনুষঙ্গ না হয়ে ক্যাম্পাসের চলমান আলোচনারও একটি অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।
নবীনবরণের দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, চারুকলা অনুষদ ও বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খান এবং গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের।
তবে দিনের আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল এই ব্যতিক্রমী প্ল্যাকার্ড। শিক্ষার্থীদের অনেককে এর সামনে ছবি তুলতে এবং এর বার্তা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যানার ও স্লোগানের বাইরে গিয়ে শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরার কারণে প্ল্যাকার্ডটি নবীনবরণ উৎসবে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।







