দীর্ঘ অপেক্ষার পর দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বার্ষিক সাময়িকী অনুরণন-এর মোড়ক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সাময়িকী প্রকাশের মধ্য দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দ্বিতীয় তলায় শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরণন-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ। অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর জাবের আহমেদ এবং সভাপতিত্ব করেন বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন শিক্ষার্থীদের মেধা মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত অনুরণন প্রকাশ বিএম কলেজের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন কলেজের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও বিএম কলেজের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরবেন এবং প্রতিষ্ঠানের যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাকে স্মরণ করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদ বিএম কলেজের সঙ্গে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে বলেন সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার গভীর আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দীর্ঘ অপেক্ষিত সাময়িকী প্রকাশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের চিন্তা মেধা ও প্রতিভা প্রকাশের জন্য অনুরণন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
ম্যাগাজিনের আহ্বায়ক আহ্বায়ক প্রফেসর জাবের আহমেদ বলেন দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজকের এই অনুরণন প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রকাশনার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কলেজের বার্ষিক সাময়িকীতে নিজেদের লেখা প্রকাশের সুযোগ পাওয়াকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সাময়িকীতে লেখা প্রকাশিত দুইজন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কলেজের বার্ষিক সাময়িকীতে নিজেদের লেখা প্রকাশের সুযোগ পাওয়াকে তারা আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। নিয়মিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলে ব্যাক্ত করেন কিছু শিক্ষাথীরা।
সভাপতির বক্তব্যে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন কলেজের ঐতিহ্য এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে ধারণ করেই অনুরণন প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের সংখ্যায় যাদের লেখা প্রকাশিত হয়নি, তাদের মন খারাপ না করে লেখালেখি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ভালো লেখা পরবর্তী সংখ্যার সাময়িকীতে প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন অধ্যক্ষ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উক্ত কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সংগীতা সরকার এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাময়িকীতে লেখা প্রকাশিত লেখকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষিত এই অনুরণন প্রকাশকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সকলে আশা ব্যাক্ত করেন, নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে অনুরণন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে সমৃদ্ধতর হয়ে উঠবে।







