বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে। এর মধ্যে হামলার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানি। ফলে সপ্তাহান্তে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছে।
তবে কিছু জাহাজ নিরাপত্তার কারণে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এলেও প্রকৃতপক্ষে প্রণালিটি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। কারণ হামলা এড়াতে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ করে দিয়েছে।
পণ্যবাণিজ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলো ছিল তুলনামূলক ছোট আকারের। এর মধ্যে দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী জাহাজ ছিল। একটি ইরানের দিকের পথ দিয়ে প্রণালি থেকে বেরিয়ে গেছে। অন্যটি রাতের অন্ধকারে প্রণালি পার হয়ে ভারতের দিকে গেছে।
এর আগে গত শুক্রবার প্রণালিটি দিয়ে মোট ১৪টি জাহাজ চলাচল করে। এর মধ্যে একটি ছিল বিপুল আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। ওই জাহাজে কাতারের ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। জাহাজটি ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই প্রণালি পার হয়।
এদিকে রোববার (৩০ আগস্ট) যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, গত শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভেতরের দিকে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত কোনও বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রণালিটিতে এটি ছিল তৃতীয় হামলার ঘটনা।
এর মধ্যে রোববার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লারাক দ্বীপে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের শেষের পর উপসাগরীয় এই দেশে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
এরপর জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।







