স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসী ভোটার, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচনের সময় নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে না পারা বহু ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
ইসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে কমিশনের পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। ফলে প্রবাসীরা সরাসরি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে প্রবাসে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের ভেতরেও নিয়মিতভাবে এই পদ্ধতি চালুর চিন্তা আপাতত নেই। তবে আগ্রহী কোনো ভোটার আবেদন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
ইসি কর্মকর্তাদের মতে, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা আইনে থাকলেও দীর্ঘদিন এটি সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হয়েছে। আগে মূলত সেনাসদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বা নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্যই এ সুবিধা ছিল।
তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে সম্প্রসারিত করা হয়। ওই নির্বাচনে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। পুরো ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।
কিন্তু ঘোষণাপত্র সংযুক্তি, অতিরিক্ত খাম, যাচাই-বাছাইসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যয়ের কারণে কমিশনের ভেতরে এই পদ্ধতি সহজ করার আলোচনা শুরু হয়। এর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে প্রক্সি ভোটিং—অর্থাৎ বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও আলোচনায় আসে। এসব দিক বিবেচনা করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট না রাখার সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকেছে ইসি।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জাতীয় নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট চালুর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এ ব্যবস্থা চালু থাকলে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়তে পারত। তার মতে, অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত প্রবাসীদের ভোটাধিকার সীমিত করা হলে নির্বাচন কমিশন সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বড় অংশ আসে প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে। তাই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা সীমিত হয়ে গেলে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভোটার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটিং বা সহজীকৃত পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করা গেলে প্রবাসী ও দূরবর্তী ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।