রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবি মেডিকেলের চিকিৎসক।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের পেছনে এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধ মেটেনি। একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
এর জেরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একাডেমিক ভবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’
রাবি মেডিকেলের চিকিৎসক জানান, আমরা গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে পেয়েছি। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা একটু আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে আমরা অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে দুই বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য রামেকে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দোষী তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।







