টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে রয়েছেন যারা

Post Image

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে শুরুটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশ নতুন বল হাতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে চাপে রেখেছে। উইকেট থেকে পাওয়া ঘাস, বাউন্স ও সামান্য সুইং কাজে লাগিয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ বেশ কয়েকবার দুই ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেছেন। তবে প্রথম ইনিংসে এখনো কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা করেন হেড ও ওয়েদারাল্ড। প্রথম ওভারেই নতুন বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে আক্রমণে আসেন তাসকিন। ওভার থেকে ৫ রান এলেও বল হাতে বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিলেন এই পেসার। গতি ও লেংথের সমন্বয়ে অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ওপেনার হেডকে একবার অস্বস্তিতেও ফেলেন তিনি। পায়ের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে পরাস্ত হন হেড।



তাসকিনের প্রথম ওভারের বোলিং নজর এড়ায়নি ধারাভাষ্যকার অ্যাডাম গিলক্রিস্টেরও। মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটের বাড়তি বাউন্স কাজে লাগানোর পাশাপাশি তাসকিন শুরু থেকেই লাইন-লেংথ ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

পরের ওভারে বল হাতে নেন হাসান মাহমুদ। ওভারের চতুর্থ বলে ভালো লেংথ থেকে করা ডেলিভারিতে ওয়েদারাল্ডকে পরাস্ত করেন তিনি। বলটি ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে বেরিয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার কোনো রান আসেনি। তবে ওভারটি থেকে ৬ রান দেন হাসান।


প্রথম দুই ওভার শেষে ওয়েদারাল্ড ৪ ও হেড ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের ব্যাট থেকেই এসেছিল একটি করে চার। স্কোরবোর্ডে রান বাড়লেও অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের ব্যাটিংয়ে স্বস্তি খুব একটা দেখা যায়নি। বাংলাদেশের পেসারদের বল সামলাতেই তাদের বেশি মনোযোগ দিতে হচ্ছিল।


ম্যাচ শুরুর আগে মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন হেড। ফক্স ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার জানিয়েছিলেন, উইকেটটি বেশ শক্ত এবং তাতে ঘাসও রয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই উইকেটের সেই বৈশিষ্ট্যের প্রভাব দেখা যেতে থাকে।

হাসানের তৃতীয় ওভারে উইকেটের আচরণ আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। তার বলগুলো আগের তুলনায় কিছুটা বেশি উঠছিল এবং দুই দিকেই সুইং করছিল। ওই ওভারের তৃতীয় বলে হেড মিসটাইম করে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। তবে বলটি ফিল্ডারের নাগালের বাইরে নিরাপদ জায়গায় পড়ে যাওয়ায় বেঁচে যান তিনি।


ওই ওভারের পঞ্চম বলে আবারও ওয়েদারাল্ডকে পরাস্ত করেন হাসান। ভালো লেংথে পড়ার পর বলটি দ্রুত ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। ব্যাট নামানোর আগেই বল ওয়েদারাল্ডের ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়। এখন পর্যন্ত হাসানের করা বলগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে নজরকাড়া ডেলিভারিগুলোর একটি।


মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে পাওয়া বাড়তি বাউন্স ও দুই দিকের সুইংয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকেই বেশ সতর্ক হয়ে খেলতে দেখা যায়। বিশেষ করে ওয়েদারাল্ড ঝুঁকি কমিয়ে উইকেটের আচরণ বোঝার চেষ্টা করেন। হেড শুরুতে কয়েকটি আক্রমণাত্মক শট খেললেও বাংলাদেশের পেসারদের আঁটসাঁট লাইন-লেংথের কারণে তাকেও বেশ কয়েকবার ব্যাট সরিয়ে নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে অবশ্য এই ম্যাচে নেই নাহিদ রানা। চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া এই তরুণ পেসারের গতি ও বাড়তি বাউন্স মারারা স্টেডিয়ামের এমন উইকেটে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারত। তার অনুপস্থিতিতে হাসান মাহমুদ শুরুতে সেই ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।


তাসকিনের তুলনায় হাসানের বোলিংয়ে শুরুতে বেশি সুইং দেখা গেছে। ভালো লেংথ থেকে দুই দিকে বল নেওয়ার পাশাপাশি উইকেট থেকে পাওয়া বাড়তি বাউন্সও কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ষষ্ঠ ওভারেও তার বলে ওয়েদারাল্ড আবারও ব্যাট লাগাতে ব্যর্থ হন।


অন্য প্রান্তে তাসকিনও চাপ ধরে রাখার কাজটি করে যাচ্ছেন। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে হেডকে শুরু থেকেই নিজের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেখা যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ওপেনার কয়েকটি আক্রমণাত্মক শট খেললেও বাংলাদেশের পেসারদের লাইন-লেংথের কারণে বারবার সতর্ক হতে হয়েছে তাকে।

ছয় ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারই উইকেটে ছিলেন। ওয়েদারাল্ড অপরাজিত ছিলেন ৪ রানে, হেডের সংগ্রহ ৮। দুজনের ব্যাটেই ছিল একটি করে চার। স্কোরবোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার রান খুব বেশি না হলেও শুরুতেই বাংলাদেশের বোলাররা যে চাপ তৈরি করতে পেরেছেন, সেটি ছিল সফরকারীদের জন্য ইতিবাচক দিক।


২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের প্রথম টেস্টে একাদশে তিন পেসার ও দুই স্পিনার রেখেছে বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন লিটন দাস। অন্যদিকে প্রায় আট মাস পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন।


টস জিতে মারারা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের পেসাররা বুঝিয়ে দিয়েছেন, নতুন বলের সময়টা সহজে ছেড়ে দিতে চান না তারা। এখন পর্যন্ত উইকেট না এলেও তাসকিন ও হাসানের বোলিংয়ে তৈরি হওয়া চাপ ধরে রাখাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস যত এগোবে, উইকেটের আচরণও তত পরিষ্কার হবে। আপাতত ঘাস ও বাউন্সের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের পেসাররা যে শুরুটা চেয়েছিলেন, তার অনেকটাই পেয়েছেন। সেই চাপ থেকে প্রথম উইকেটটি কখন আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


বাংলাদেশ একাদশ

তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ।


অস্ট্রেলিয়া একাদশ

ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।

সর্বশেষ খবর

হাসানের তোপে দুইশর আগেই গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

৪০ কেজি ওজনের শিরোপা জিতল রিয়াল মাদ্রিদ

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে রয়েছেন যারা

বিয়ে করলেন রোনালদো, হলেন আর্জেন্টাইনদের ‘দুলাভাই’

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী একাদশ, কারা আছেন?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ নিশ্চিত

স্ত্রী ও সন্তানদের টাকা পাঠাতে পারছি না, কোচের স্ট্যাটাসে বিব্রত বাফুফে

বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন মেসি

সর্বাধিক পঠিত