দিল্লির চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ভিডিও বার্তায় মোদি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নতুন আইন আনা হচ্ছে। এ আইনের একটি খসড়া তিনি ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ভিডিও বার্তা দেয়া হয়।
বার্তায় বলা হয় আজ শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হবে।
ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দ্রুত বিচার আদালতে করার আশ্বাস দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় জাতির উদ্দেশে মোদি এ ভিডিও বার্তা দেন। তবে বিচার দ্রুত করার বিষয়ে মোদির এ আশ্বাস আমলে না নিয়ে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।
ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি ভালোভাবেই জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা চরম মানসিক কষ্টে পড়েন। এ কারণে এসব ঘটনার পর গত আড়াই মাসে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে।’
মোদি আরো বলেন, নিরলসভাবে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে তার কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এ খসড়ায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের পরামর্শ যুক্ত করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পার্লামেন্টে পাস করার চেষ্টা করা হবে।
পরীক্ষার্থীদের সেশনজট এড়াতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের যেন একটি পুরো শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। কম সময়ে দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সরকার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেছিল। প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আয়োজনের পর গত ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সারাদেশ থেকে সফল পরীক্ষার্থীদের আনন্দের সংবাদ আমরা পাচ্ছি।’
এদিকে এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে টানা ২৬ দিন আমরণ অনশনে থাকা ভারতের প্রখ্যাত পরিবেশ ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক অবশেষে অনশন প্রত্যাহার করেছেন।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া







