ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় এই আসরে এবার ৪৮টি দল অংশ নেবে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। এই ৪৮ দলের মধ্যে এমন একটি দল আছে, যারা শুরু থেকেই বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরে খেলেছে। সেটি হলো ব্রাজিল। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬; সবমিলিয়ে ২৩টি বিশ্বকাপেই অংশ নেয়ার অনন্য কৃতিত্ব একমাত্র ব্রাজিলের।
শুধু অংশগ্রহণই নয়, বিশ্বকাপে সফলতার দিক থেকেও ব্রাজিল সবার ওপরে। পাঁচবার শিরোপা জিতে তারা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল দল। তাদের ঠিক পরেই রয়েছে জার্মানি ও ইতালি। এই দুটি দলই চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়টা ব্রাজিলের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। ২০০২ সালে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর থেকে দলটি আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে সেমিফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় তাদের জন্য এক তীব্র হতাশার স্মৃতি হয়ে আছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার নিচে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে তারা পঞ্চম স্থানে থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়, যা পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বাছাই অভিযান। এই সময়ে দলটি তিনজন ভিন্ন কোচের অধীনে খেলেছে।
বর্তমানে দলটির দায়িত্বে আছেন কার্লো আনচেলত্তি। ২০২৫ সালের মে মাসে কোচ হিসেবে যোগ দেন তিনি। তার অধীনে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতেও মিশ্র ফল করেছে ব্রাজিল; জাপানের কাছে হার, তিউনিসিয়ার সঙ্গে ড্র এবং মার্চে ফ্যান্সের বিপক্ষে পরাজয় তাদের প্রস্তুতিতে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল বিশ্বকাপের আগে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এরপর ১৩ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
সবমিলিয়ে, ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের বিচারে ব্রাজিল এখনো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায়, ২০২৬ আসরে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের পথে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।







