দুর্দান্ত গতিতে বিশ্বকাপের ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে জয় তুলে নেন মেসিরা। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সোমবার আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের। ওই ম্যাচে জিতলে সেমি ফাইনাল হয়ে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে আর্জেন্টিনার। তবে আর্জেন্টিনা যদি ফাইনালে ওঠেন তাতে কপাল পুড়তে পারে রেফারি মাইকেল অলিভারের।
শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের দায়িত্বে থাকতে পারেন এই ইংলিশ রেফারি। তবে আর্জেন্টিনা কোনোভাবে ফাইনালে উঠলে রেফারিং করার সুযোগ হারাবেন তিনি। একই ঘটনা ঘটবে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ থ্রি লায়ন্সরা যদি ফাইনালে ওঠে তাহলে ওই ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালনের সুযোগ হারাবেন আর্জেন্টাইন রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো। কিন্তু কেন আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংলিশ এবং ইংল্যান্ডের ম্যাচের দায়িত্বে কোনো আর্জেন্টাইন রেফারি থাকেন না?
কেন এই ব্যতিক্রম?
বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন অলিভার। তবে মেসিরা ফাইনালে উঠলে ১৯ জুলাই ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মাঠে দেখা যাবে না তাকে। এর পেছনে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের তিক্ত ইতিহাস। ৪৪ বছর আগে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে যুদ্ধে জড়ায় এই দুই দেশ।
আর্জেন্টিনা ব্রিটিশ অধিকৃত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে ১৯৮২ সালে ২ এপ্রিল ফকল্যান্ড যুদ্ধ শুরু হয়। ৭৪ দিন স্থায়ী এই যুদ্ধ আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে নিহত হন ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য এবং ফকল্যান্ডের তিনজন বাসিন্দা। এরপর থেকেই এমন নিয়ম চলে আসছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে।
এর আগেও আরেক ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেইলরএকই কারণে সুযোগ হারিয়েছিলেন। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় ওই ম্যাচ পরিচালনার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি।







