জুলাই গণঅভ্যুত্থান একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়নি। এটি ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাস্তায় নেমেছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষ। আর সেই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন। স্টার নিউজকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন এনসিপির আহ্বায়ক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম।
মুক্তিযুদ্ধের পর অধিকার আদায়ের সবচেয়ে বড় আন্দোলনের নাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান। যার তোড়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। জুলাই আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক কে? কে সেই মাস্টারমাইন্ড? এমন প্রশ্ন আর উত্তরের চোরাবালিতে ঘুরপাক খেয়েছেন অনেকেই। তবে এই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড ছিল না।
তিনি আরও বলেন,আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর এটা মনে রাখা উচিত। এই আন্দোলন সফল হওয়ার একমাত্র কন্ডিশন হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অরাজনৈতিক বহুসংখ্যক মানুষ নেমে এসে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। না হলে ১৬ বছর ধরে বিএনপি-জামায়াত আন্দোলন করতেছিলই। এর থেকেও কঠোর আন্দোলনে তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময় দিয়েছে। সেই আন্দোলন সফল হয় নাই। কারণ শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই ছিল, কর্মীরাই ছিল। এই আন্দোলন সফল হয়েছে কারণ জনগণের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ। তাই আসলে জনগণকে সেই ক্রেডিটটা দেওয়া উচিত।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে এই বিপ্লবে কেউ অংশ নেননি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন সবাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বেই এটি হয়েছে। লিডারশিপের এখানে খুবই ক্লিয়ার। কিন্তু আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিল সবার। রাজনৈতিক পরিচয়ে তো কেউ আসে নাই তখন। কি কেউ বলেছে বিএনপি বা জামায়াত? সবাই তো তার রাজনৈতিক পরিচয় তখন বলতে গেলে লুকিয়েছে। কারণ জনগণ হিসেবে সবাই মাঠে সেখানে নেমেছে।
ফ্যাসিবাদীদের নেত্রী ভারতে পালিয়ে গেলেও তার সমর্থকরা জুলাইকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সেই সময়ে ছাত্রনেতৃত্বকে বিতর্কিত করা এবং জুলাইকে বিতর্কিত করা এটা তো একটা এজেন্ডাই ছিল। সেই জায়গা থেকে এই মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক মিডিয়াকে ব্যবহার করে এ ধরনের তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ফলে জুলাই এক একটা ব্যাপার, আর জুলাই-পরবর্তী কিন্তু বৈষম্যবিরোধী বলেন বা সেটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে অনেকেই অনেক জায়গায় অনেক কিছু করেছে যারা এখন ছাত্রদল করছে বা অন্য কোনো দল করছে। রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে জুলাইয়ের অনেক আকাঙ্ক্ষাই পূরণ হয়নি বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।







