জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচির অংশ হিসেবে চারটি বিভাগমুখী লংমার্চ এবং নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা জনদাবিও তুলে ধরেছে জোটটি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
জোটের নেতারা বলেন, অবিলম্বে গণহত্যার বিচার বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলতেই এ ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম সড়কপথে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঢাকা থেকে রংপুর সড়কপথে, ১০ অক্টোবর (শনিবার) ঢাকা থেকে খুলনা সড়কপথে এবং ২৪ অক্টোবর (শনিবার) ঢাকা থেকে সিলেট রেলপথে লংমার্চ করবে জোটটি। এরপর ১৪ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঘোষিত এসব কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশব্যাপী গণসংযোগ ও আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা জনদাবিও উত্থাপন করে জোটটি।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গণশুনানির আয়োজন, দায়ীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল, অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ ছাড়া মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ, পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
১০ দফা দাবিতে আরও বলা হয়, গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় জোটটি।
অবস্থান কর্মসূচিতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







