সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে অবসরে পাঠানো হয়েছে

Post Image

সকল কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসমূহ অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নবায়নযোগ্য উৎসের প্রসারে ব্যাপক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে চট্টগ্রাম ১৫ আসনের সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপিসির সাড়ে তিন মাসে লোকসান ১৭০৩৯ কোটি টাকা জ্বালানি সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গত মে মাস জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে মূল্য হ্রাসের পরেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এখনো অনেক কম রয়েছে। তিনি বলেন, জুন মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের কস্টিং ১৭৫.২২ টাকা ও অকটনের কস্টিং ১৬০.৭০ টাকা হলে সরকার জনস্বার্থে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে অকটেন, পেট্টোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এখনো ব্রেক-ইভেনের উপরে রয়েছে। ফলে ডিজেলে, অকটেন ও পেট্টোল বিক্রয়ে বিপিসিকে এখনও দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের এলসি পেমেন্ট অনুযায়ী বিপিসি’র প্রকৃত লোকসানের পরিমান প্রায় ১৭ হাজার ৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

ওই প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক কমে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করায় লোকসান সত্ত্বেও বিপিসি নিজস্ব তহবিল দিয়ে তিন মাস ধরে জ্বালানি তেলের আমদানি কার্যক্রম সচল রেখে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য আরও কমে সহনশীল পর্যায়ে আসলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ চালুর বিষয়ে সরকারের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক গ্যাস চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের ক্রমহ্রাসমান উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে মোট গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি থাকায় ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই এক পরিপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, সার ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল ব্যতিত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি শ্রেণিতে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে।

মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে সংযোগকৃত গ্রাহকের অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে (এপ্রিল পর্যন্ত) গড় গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক প্রায় ২৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতির পরিমান দৈনিক প্রায় ১১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

সিরাজগঞ্জ ১ আসনের সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দেশে গ্রিডভিত্তিক মোট ১৩৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রয়েছে, যার মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা মে মাস পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। দেশের চাহিদা পূরণের চালুকৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।

যশোর ৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সারাদেশে বিদ্যুৎ সেবা আরও উন্নত, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের ইশতেহারে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের যথাযথ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উপাদানে কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসন ৩৫ এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি, দিঘীপাড়া, খালাসীপাড়া ও জামালগঞ্জ। এর মধ্যে শুধুমাত্র বড়পুকুরিযা কয়লাক্ষেত্র থেকে ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। বাকি ৪টির মধ্যে ফুলবাড়ী ও দিঘীপাড়া কয়লাক্ষেত্রের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুটির আংশিক সমীক্ষা হয়েছে।

কুমিল্লা ৬ আসনের সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বিপিসি ও বিপনন কোম্পানিগুলোর মে মাস পর্যন্ত ১৪০৯টি অডিট আপত্তি রয়েছে। যার টাকার পরিমাণ এক লাখ ১৬ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। জ্বালানিও খনিজ সম্পদ বিভাগ ও অডিট অধিদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিপিসির অডিট আপত্তিসমূহের হালনাগাদ তথ্য প্রেরণে অসুবিধা হচ্ছে। বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তর হলে অডিট বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে, যা সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

স্পিকারের সঙ্গে ইরানী রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে অবসরে পাঠানো হয়েছে

হবিগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক পুলিশ

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতা

শুভেন্দুকে থামাতে বললেন বিএনপির এমপি

মারামারি-ছিনতাই মামলায় বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে

বাংলাদেশের বিমানবন্দরে বিসিএমএস স্থাপনে আগ্রহ ইতালীয় প্রতিষ্ঠানের

মাদকের বিস্তার ও চুরি ডাকাতি রোধে পিরোজপুরে মানববন্ধন

সর্বাধিক পঠিত

‘দেশে আসার পূর্বে যারা দিল্লির কাছে দস্তখত দেয় তাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়’

যোগ্যতার ভিত্তিতে ৫০০ আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্য জামায়াতের

যে কারণে শপথ অনুষ্ঠানে যায়নি জামায়াত

সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ছাড়া সবাইকে ১০ দলে আসার আহ্বান: হান্নান মাসুদ

তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচারে কোকোর স্ত্রী শামিলা

প্রশাসন সংস্কারে জামায়াতের ১৬ দফা

৬৩ হাজার ভোটে হারুনকে হারিয়ে বিজয়ী জামায়াতের বুলবুল

ফটিকছড়িতে আ’লীগের মশাল মিছিল

যে কারণে মনিরা ও নুসরাতের মনোনয়নপত্র বাতিল

৭১ এবং চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আছি : নাহিদ