আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছেন লিওনেল মেসি। বসে গেছেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে। পরের ম্যাচে আর একটি গোল করলেই হয়ে যাবেন এককভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা।
মেসির হ্যাটট্রিক নিয়ে সারাদিন রীতিমতো মহাকাব্য লিখছে মিডিয়াগুলো। কিন্তু আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে একটি কদর্য রূপও দেখা গেছে মেসির। যেটার জন্য নিশ্চিত লাল কার্ড দেখতে পারতেন লিওনেল মেসি। অথচ, ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা রেফারি পোল্যান্ডের সাইমন মারচিনিয়াক ঘটনাটা বিলকুল এড়িয়ে গেছেন। মেসিভক্ত এই রেফারি নিশ্চিত লাল কার্ড থেকে বাঁচিয়ে দিলেন তিনি।
আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া ম্যাচ পরিচালানকারী রেফারি পোল্যান্ডের সাইমন মারচিনিয়াক কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন। ওই ম্যাচের শুরুতে ডি মারিয়া যে পেনাল্টি আদায় করে নিয়েছিলেন, সেটাকে অনেকেই মেসির প্রতি মারচিনিয়াকের উপহার মনে করেন। তবে, ওই ফাইনালের পর থেকে জানা যায়, মারচিনিয়াক একজন মেসিভক্ত। তাকে দিয়েই আবার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনা করাটাই বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছিল।
‘জি’ গ্রুপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের একটি মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর প্রথমার্ধেই আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির সঙ্গে বলের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, মেসির স্টাডস উঁচু করে করা ট্যাকলে মান্দি আঘাত পান। ঘটনাটিকে বিপজ্জনক ফাউল হিসেবে দেখলেও ম্যাচের রেফারি শুধুমাত্র ফ্রি-কিক দেন।
অবাক করার বিষয় হলো, এতটা গুরুতর সংস্পর্শের পরও ম্যাচের রেফারি মেসিকে একটি হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেখাননি। আরও বিস্ময়ের জন্ম দেয় ভিএআরের সিদ্ধান্ত; তারা রেফারিকে পুনরায় ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্যও আহ্বান জানায়নি।
রেফারির এই নমনীয় অবস্থান ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকাদের ক্ষেত্রে কি ম্যাচ কর্মকর্তারা আলাদা মানদণ্ড প্রয়োগ করেন? বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে কি ফুটবলের আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান থাকে?
মেসির হ্যাটট্রিক ও রেকর্ড ছোঁয়ার কীর্তির পাশাপাশি এই ঘটনাও এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, ওই মুহূর্তে লাল কার্ড দেখানো হলে ম্যাচের গল্প এবং মেসির ঐতিহাসিক রাত- দুটোই ভিন্ন হতে পারত।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যে বিতর্কের কারণে মেসির হ্যাটট্রিকের অর্জন ম্লান হয়ে যেতে বসেছে। অনেক সমর্থকের মতে, ওই ট্যাকল সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী দাবি করেন, মেসিকে এই অপরাধে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি হ্যাটট্রিক করার সুযোগই পেতেন না।







