এক বিশ্বকাপের সময় হত্যা, আরেকটির সময় এলো মৃত্যুদণ্ডের রায়

Post Image

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে চট্টগ্রামে আলোড়ন তোলা শিশু আলীনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলার রায় এসেছে আরেক বিশ্বকাপের আবহে। বহুল আলোচিত এ মামলায় প্রধান আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে অর্থদণ্ড ও পৃথক কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

সে বছরের ১৫ নভেম্বর শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরো করা হয়। তিন টুকরো নগরীর আউটার রিং রোড-সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেন। বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেওয়া হয়। লোমহর্ষক এ ঘটনা তখন চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল পুরো চট্টগ্রামে।

সাড়ে তিন বছর এ মামলার বিচার চলার পর বুধবার (১৭ জুন) রায়টি দিয়েছেন আদালত। রায়ে আসামি আবির আলীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। একই রায়ে বিচারক তাকে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন। চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় দেন।

দণ্ডিত আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকা থেকে আয়াত নিখোঁজ হয় ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর। তার বাবার নাম সোহেল রানা। নিখোঁজের পর থানায় জিডি করেন শিশুটির বাবা।

আদালতে উপস্থিত থাকা পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, মামলার দুজন আসামির মধ্যে আবির আলীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অপর আসামি কিশোর বয়সী হওয়ায় তার বিচার চলছে শিশু আদালতে।

তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় আয়াতের দাদা মনজুর হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকত আবিরের পরিবার। আবিরের জন্ম ওই বাসায়। কিন্তু হতাশা থেকে তিনি শিশু আয়াতকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতে চেয়েছিলেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এক কিশোরের সহায়তায় পরে লাশ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসে। এ মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকেলে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। এরপর থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা আয়াত হত্যার অভিযোগে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর প্রতিবেশী আবির আলীকে গ্রেপ্তার করেন।

২৫ নভেম্বর দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে থাকা স্লুইচগেট থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন উদ্ধার করা হয় খণ্ডিত মাথা। ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

চাঁদাবাজি ঠেকাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: সারজিস আলম

জুলাই শহীদ পরিবারকে কোটি টাকা প্রদানসহ তিন দাবি এনসিপির

প্রধানমন্ত্রী সংস্কার নামে প্রতারণা করছেন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‌‘আবু সাঈদের চেতনা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচারের পক্ষে জাগিয়ে তুলছে’

‘জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি ছাত্রদল বেইমানি করবে না’

‘ভারতকে খুশি করার জন্য সংবিধান বানিয়েছিল শেখ মুজিব’

হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১৮ বারের মতো পেছাল

ডাকসুকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘অসহযোগিতা’, জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

সর্বাধিক পঠিত

‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার বাবাকে কবর থেকে ক্ষমা চাইতে বলেন’

তারেক রহমানের সঙ্গে মঞ্চে বহিষ্কৃত সাক্কু!

ভোট চুরি হতে পারে, ফলাফল না নিয়ে ফিরবেন না:ডা. শফিকুর রহমান

গণভোট না হলে জাতীয় নির্বাচন হবে ২০২৯ সালে

‘জামায়াত পরিশুদ্ধ না হলে বীরবিক্রম এবং মুক্তিযোদ্ধা তাদের সঙ্গে গেল কীভাবে?’

বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?

দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন জোনায়েদ সাকি

‘আমাদের জীবনের চাইতে মা-বোনদের ইজ্জতের দাম অনেক বেশি’

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে : তারেক রহমান

প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে তাসনিম জারার স্ট্যাটাস