ফুটবল বিশ্বে জার্মানি যেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। তারা যখন মাঠে নামে তখন যেন প্রতিপক্ষের জন্য কোনো দয়া-মায়াই রাখে না। শুধু বিপক্ষ দলের ফুটবলাররাই নন, তাদেরসমর্থকদেরও কাঁদানোর নজির আছে এ পরাশক্তিদের।
২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেও দেখা গেছে তাদের সে চিরচেনা রূপ। রোববার (১৪ জুন) রাতে হিউস্টন স্টেডিয়ামে কুরাসাওকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে। এই স্কোরলাইনটি আবার ব্রাজিল সমর্থকদের মনে করিয়ে দেয় ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলো হরিজন্তের সেই দুঃস্বপ্নের রাতের কথাও। ওই আসরের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল এই জার্মানিই।
প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেয়ার এমন ইতিহাস অনেক আছে জার্মানদের। তবে গৌরবোজ্জ্বল এই যাত্রাপথে কলঙ্কও আছে তাদের। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয়, যে ম্যাচে ৭ গোলের বেশি হজম করেছিল ফুটবলের এ পরাশক্তিরা।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আসরের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হাঙ্গেরির মুখোমুখি হয়েছিল তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি। ২০ জুন বাসেলের সেন্ট জ্যাকব স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে জার্মান রক্ষণভাগকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেয় হাঙ্গেরিয়ানরা। শেষ পর্যন্ত ৮-৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই হাঙ্গেরির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড সান্দর কচিশ ও জোলতান চিবোরদের নেতৃত্বে আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যায় তারা। জার্মানির রক্ষণভাগ সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয় এবং একের পর এক গোল হজম করে। শেষ পর্যন্ত পাঁচ গোলের ব্যবধানের এই হারই বিশ্বকাপে জার্মানির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয় হিসেবে রয়ে গেছে।
তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি লুকিয়ে আছে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে। গ্রুপ পর্বে ৮-৩ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ পরই আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় হাঙ্গেরি ও পশ্চিম জার্মানি। তখন পর্যন্ত হাঙ্গেরিকে অপরাজেয়ই মনে করা হতো। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে তারা শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ছিল।
কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই যেন প্রমাণ করে পশ্চিম জার্মানি। ফাইনালে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে তারা ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। সেই ঐতিহাসিক জয়ের নামই পরে হয়ে যায় ‘মিরাকল অব বার্ন’। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে আজও স্মরণ করা হয় সেই ফাইনালকে।







