২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে, শুরু হয়েছে মাঠের লড়াই। তবে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসে যোগ করেছেন আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে আইসল্যান্ডকে হারায়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মেসির নতুন এই অর্জন।
সামান্য হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে শুরুর একাদশে রাখেননি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯তম মিনিটে মাঠে নামার পর প্রায় ৮৮ হাজার দর্শকের করতালিতে সাড়া দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার উপস্থিতিতে আক্রমণে গতি ফিরে পায় দল। মেসির নিখুঁত পাস থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন মেসি।
এই গোলের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রায় সাত দশক পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতার মর্যাদা অর্জন করেন মেসি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি স্ট্রাইকার আনহেল আমাদেও লাব্রুনার দখলে। তিনি ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে গোল করেছিলেন ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে। দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড অবশেষে ভাঙলেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল মেসির ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি আগেই শীর্ষে ছিলেন, এবার সেই ব্যবধান আরও বাড়ালেন। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোলসংখ্যা ৫৫, অর্থাৎ তার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গোল এখন মেসির ঝুলিতে।
এছাড়া ম্যাচটি ছিল মেসির ১৯৯তম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মাঠে নামলেই তিনি দেশের হয়ে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডও তার নাগালের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে সেই কীর্তিটি ধরে রেখেছেন মার্টিন পালের্মো, যিনি ২০১০ বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।
আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। সেই ম্যাচে সমর্থকদের দৃষ্টি থাকবে মেসির দিকে— আরও কোনো নতুন রেকর্ড তার পায়ে লেখা হয় কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।







