নেত্রকোণারপূর্বধলা উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা প্রশাসন ইজারা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য মঙ্গলবার ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য নিলাম শুরু হয়। নিলামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও দরদাতারা অংশ নেন।
নিলামের একপর্যায়ে একটি পশুর হাটের দরদাতাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সম্মেলনকক্ষের ভেতর ও বাইরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে প্রশাসন ইজারা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
ঘটনার বিষয়ে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে পশুর হাটের ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এ সময় তাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জামায়াতের লোকজনই সব পশুর হাট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলেও দাবি করেন তিনি।
পূর্বধলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তাসনীম জাহান বলেন, পশুর হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







