যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের প্রথম দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে ইরান ইস্যুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ২০১৭ সালের পর প্রথমবার চীন সফরে গিয়ে ট্রাম্পকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় সামরিক গার্ড অব অনার, কামান স্যালুট এবং দুই দেশের পতাকা হাতে শিশুদের উপস্থিতি ছিল।
বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা থেকে লাভবান হবে, আর সংঘাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ জবাবে ট্রাম্প দুই নেতার সম্পর্ককে চমৎকার উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ‘আগের চেয়ে আরও ভালো হবে।’
চীনা গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাণিজ্য আলোচনা, তবে চুক্তি হয়নি
দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান শি। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, গরুর মাংস ও উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
ইরান ইস্যুতে নীরবতা
ইরান যুদ্ধই এই শীর্ষ বৈঠক ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলেও বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, ওয়াশিংটন চেয়েছিল বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করুক। তবে চীন সফরের আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও সঙ্গে
ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে বড় মার্কিন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারাও বেইজিং গেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইলন মাস্ক, টিম কুক, জেনসেন হুয়াংও অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতা।
চীনা প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বলেন, চীনের দরজা আরও উন্মুক্ত হবে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এখানে আরও বড় সুযোগ তৈরি হবে।
দুই নেতার মধ্যে শুক্রবার আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ







