বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলেরর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিগকে মালতিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকেদের এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে সকাল ১০টায় নির্বাচনি এজেন্টের কাছ থেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এই ফরম পূরণ করে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও তা সকালেই সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, রাজাপুর কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে বিএনপি ভোটকেন্দ্র দখল করেছে। এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি রিটার্নিং অফিসারের হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেয়া আসনে সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে । বেলা বাড়লেও ভোটার উপস্থিতি তেমন বাড়েনি। বগুড়ার ১০টি কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ৭ শতাংশ, কোথাও ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে; দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রেই ১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি হয়নি।
সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় বগুড়া করনেশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ১০৭টি। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ৪ হাজার ৬০ জন।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ করা যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের সংখ্যা বাড়বে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। আসনটিতে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি। মোট ১৫০টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।
আসনটিতে প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন (ফুলকপি)।
আসনটিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ৩ লাখ ২২ হাজার ২২৩ ভোটের মধ্যে তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩৪ ভোট। জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। অন্য আরও ৩ প্রার্থী হাজারের ঘর টপকাতে পারেননি।
জেলা গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা ও র্যাবের টহল কয়েক দিন ধরেই চলছে। এছাড়া থাকছে স্ট্রাইকিং ফোর্স, ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২ জন বিচারক নিয়োজিত করা হয়েছে।