দেশের মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি মনে করেন, ভারতীয়দের আচরণের প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের জন্য একটি প্রতীকী অবস্থান ছিল। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলে বাংলাদেশ কী অর্জন করল—এই প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদ করতে পেরেছি।
আমাদের নিরাপত্তা ইস্যু যখন ভারতের মতো এত বড় দেশের কাছে তুচ্ছ ব্যাপার হয়, আমাদের অপমান করা যখন সহজ ব্যাপার হয়...আমাদের তাচ্ছিল্য করা, আমাদের স্বার্থ হানি করা..এটার জবাব যে আমরা দিতে পারি, সেটার ভালো দৃষ্টান্ত রাখলাম। ওরা আমাদের সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে যখন এ রকম করে, তখন তাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার ছিল আমাদেরও মেরুদণ্ড বলে জিনিস আছে। এটা কি অর্জন না?’ শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোয় ধারণা করা হয়েছিল বাংলাদেশকে আর্থিক জরিমানা করবে আইসিসি; হতে পারে আরো বড় শাস্তি। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি।
এ ব্যাপারে আসিফ নজরুল বলেন, ‘সেই সময়ে বলা হয়েছিল, আমরা বিশ্বকাপ না খেললে নাকি দেশের ক্রিকেট ক্ষতির মুখে পড়বে। কই, ক্রিকেট কি ক্ষতির মুখে পড়ছে? বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশে এসে খেলছে না?’
সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে খেলতে চাওয়া-না চাওয়ার বিষয়টিও খোলাসা করেন আসিফ নজরুল, ‘আমি বোর্ডের সাথে, খেলোয়াড়দের সাথে বসেছিলাম। আমি বলেছি আপনারা মুক্তভাবে আপনাদের মতামত ব্যক্ত করেন। আমি আপনাদের মতামত শুনতে চাই।
কেউ (ক্রিকেটাররা) জোরালোভাবে বলেনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হচ্ছে না, ক্রিকেটের ক্ষতি হয়ে যাবে। খেলোয়াড়রা বলেছিল, “স্যার আমরা তো খেলতেই চাইব। তবে আপনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা মেনে নেব”।
এবারের আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিনেছিল বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতের উগ্রপন্থী হিন্দুদের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।







