ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে চালানো অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র চারটি শক্তিশালী আকাশযান হারিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে বলে জানানো হয়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ধ্বংস করেছে। এসব আকাশযান নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে বের করার মিশনে নিয়োজিত ছিল।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর এক ক্রুকে উদ্ধারে অভিযানে এসব আকাশযানকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান বাহিনী দক্ষিণ ইসফাহানে দুটি সি-১৩০ সামরিক বিমান এবং দুটি মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে।
তবে সর্বশেষ খবরটি এসেছে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবফের কাছ থেকে। যিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে বিমান হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে সোচ্চার রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে ঘটনাস্থল সম্পর্কিত একটি ছবি প্রকাশ করে গালিবফ লেখেন, আমরা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন থেকে সি-১৩০ বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ফুটেজ পেয়েছি।
ইরানের সেনাবাহিনী এবং খাতাম আল আনাবিয়ার সদর দপ্তরের বিবৃতিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা বলছে, ভূপাতিত পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের মরিয়া ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের ফলে, দক্ষিণ ইসফাহানে আগ্রাসী বিমানগুলোকে ধ্বংস করেছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘ফারাজ রেঞ্জার্স’ নামক একটি পুলিশ কমান্ডো ইউনিট বিমানটি ধ্বংস করেছে এবং এটি ছিল একটি সি-১৩০ ক্লাসের বিমান।
বিমানটি পবিত্র ভূমিতে অনধিকার প্রবেশকারী দুষ্ট আক্রমণকারীদের রসদ সরবরাহ করছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরানের ভেতরে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে এর দুই ক্রু সদস্য ইজেক্ট করেন। তাদের একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন নিখোঁজ থাকেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। নিখোঁজ ওই কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র টানা নজরদারি চালায় এবং তার উদ্ধারে বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়।
শেষপর্যন্ত নিখোঁজ ওই সদস্য সফলভাবে উদ্ধার হন।







