প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেয়েছেন গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমরান হোসেন বলেন, ‘গত ২ এপ্রিল ধার্য তারিখে নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। আজকে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তার কারামুক্তিতে কোনো বাধা নেই।’
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গায়ক নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এই পরোয়ানার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন শুনানি শেষে আপসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে তিনি মুক্ত হন।
এরপর গত ২ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। ওই দিন বাদীপক্ষে জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আসামি জামিনে গিয়ে শর্ত ভঙ্গ করেছে। এমনকি বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করেছে। এই ঘটনায় আলাদা মামলাও হয়েছে। পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন গায়ক নোবেল। পরে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। অন্য আসামিরা প্রতারণার কাজে নোবেলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
নোবেল বাদে এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন—নোবেলের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা।







