মাত্র সাত দিনে ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের ১৬ দিনের সমপরিমাণ জ্বালানি তেল। রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার এই অস্বাভাবিক বিক্রি ঘিরে তদারকির দুর্বলতা ও অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে ডিলাররা এসব কোম্পানি থেকে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার টন জ্বালানি তেল তুলেছেন। সাধারণত এই পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে সময় লাগে প্রায় ১৬ দিন।
বিষয়টি জানাজানি হলে নড়েচড়ে বসে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১১ থেকে ১২ হাজার টন তেল সরবরাহ করা হলেও ওই সময়ে অতিরিক্ত ১৩-১৪ হাজার টন তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিনের গড় সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
মেঘনা অয়েল কোম্পানি গত ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত ৫০ হাজার ৪১৩ টন তেল বিক্রি করে, যা দৈনিক গড়ে ১০ হাজার টনের বেশি। পরে এই হার কমিয়ে আনা হয় প্রায় ৩ হাজার ৭১৪ টনে। একইভাবে পদ্মা অয়েল সাত দিনে ৪১ হাজার ২৫৮ টন তেল সরবরাহ করে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাব্য সংকটের সময়ে যেখানে মজুত বাড়ানোর কথা, সেখানে অতিরিক্ত তেল ছাড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। এতে বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পদ্মা অয়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘এটা স্পষ্ট অব্যবস্থাপনা। এত তেল গেল কোথায়, সেটাই বড় প্রশ্ন।’
এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হক সরাসরি মন্তব্য না করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বাকি অংশ আসে স্থানীয় উৎস ও পরিশোধন প্রক্রিয়া থেকে।







