নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশন কার্যত তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি, খালিশা চাপানি ও ডিমলা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সামান্য জ্বালানি এলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তা মিলছে না। অনেকেই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছেন।
অন্যদিকে পাম্পে তেলের সংকট থাকলেও হাটবাজারের খুচরা দোকানগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি। প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। কিছু পাম্প মালিক সরাসরি গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে সরবরাহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে জ্বালানি কিনছেন।
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি এলাকার মোটরসাইকেল চালক আহসান হাবিব বলেন, ‘পাম্পে তেল নেই, কিন্তু বাইরে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে— এটা স্পষ্ট কারসাজি।’
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ‘এই সময় সেচ না দিলে ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।’
পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। তেলের অভাবে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফলে যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
গাড়িচালক সোহেল রানা বলেন, ‘তেল না থাকলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন।’
তবে পাম্প মালিকদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই এই সংকট। মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ আলম বলেন, ‘মজুত শেষ হয়ে গেছে। নতুন তেল না আসায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’
এদিকে প্রশাসন বলছে, বাজারে অনিয়ম রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ বাড়তি দামে তেল বিক্রি করলে ছাড় দেওয়া হবে না।’
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে।’
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।







