পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চের কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হতেই কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। আগে থেকেই টিকিট নিশ্চিত করতে যাত্রীরা কেবিন বুকিং করছেন বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
লঞ্চ মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে বরিশালগামী বেশিরভাগ বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনের প্রায় শতভাগ টিকিট ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর এই নৌরুটে যাত্রীচাপ আগের তুলনায় কমলেও ঈদের সময় চিত্র কিছুটা বদলে যায়। উৎসবকে কেন্দ্র করে তখন আবারও বাড়ে লঞ্চের কেবিনের চাহিদা।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, বুকিং শুরুর দুই দিনের মধ্যেই ঢাকা থেকে বরিশালগামী বেশিরভাগ লঞ্চের কেবিন পূর্ণ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য বেশ কয়েকটি লঞ্চের প্রায় ৭০ শতাংশ কেবিনও ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে।
ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত লঞ্চও চালু করা হবে।
এমভি আওলাদ-১০ লঞ্চের ম্যানেজার অভিজিৎ বলেন, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ১৬ তারিখ পর্যন্ত টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। ১৮ তারিখের কেবিনও পুরোপুরি বুকিং হয়েছে, তবে ১৯ তারিখের কিছু কেবিন এখনো খালি রয়েছে।
সড়কপথের তুলনায় নৌপথে ভ্রমণ বেশি আরামদায়ক হওয়ায় অনেক যাত্রী লঞ্চে যাতায়াতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। যাত্রীরা জানান, ঈদের ৮ থেকে ১০ দিন আগে কেবিন বুকিং শুরু হওয়ায় এবার টিকিট পেতে তুলনামূলক কম ভোগান্তি হচ্ছে।
যাত্রী সোহান বলেন, ভিড়ের মধ্যে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণের জন্যই লঞ্চের কেবিন টিকিট নিতে এসেছি। টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে।
আরেক যাত্রীর স্বজন আমিনুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যরা ঈদ করতে ঢাকা থেকে বরিশালে আসবেন, তাই আগেভাগেই কেবিনের টিকিট নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বাড়তি নজরদারি থাকবে।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটে ১৬টি লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যাত্রীচাপ বেড়ে গেলে বিশেষ সার্ভিস চালুর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নৌরুটে আরও প্রায় ৩০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।







