৮৫ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৬৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রবেশ করার আগেই দলটি জানিয়েছে ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করতে যাচ্ছে তারা। সেই থেকে দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনায় ছায়া মন্ত্রিপরিষদ।
হঠাৎ কেন ছায়া মন্ত্রিপরিষদের নতুন ধারনা নিয়ে এলো জামায়াত, কারাইবা হবে এই মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কোন পদ্ধতিতে কাড়দজ করবে এই মন্ত্রিপরিষদ, তাদের খরচ বহন করবে কে এসব প্রশ্ন এখন ঘুরছে জনমনে।
জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় কাজ করছেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি বলছেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর আদলে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিকে ঢেলে সাজাতে ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠনের কথা ভাবছে জামায়াত। যার কাজ হবে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা। ভুল সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করা।
জামায়াতের দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভার খসড়া তালিকা তৈরি করেছে জামায়াত। যেখানে জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি যোগ্যতার বিবেচনায় রাখা হয়েছে অন্যদেরও।
তবে ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন সেটি প্রকাশ না করলেও জামায়াতের অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলছেন, এই মন্ত্রিসভার আকার হবে সরকারের মন্ত্রিসভার প্রায় সমান। এখানে রাজনীতিবিদের পাশাপাশি ছায়ামন্ত্রী হিসেবে রাখা হবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। মন্ত্রীদের সহযোগিতায় গবেষকদের নিয়ে থাকবে বিশেষ সেক্রেটারিয়েটও।
তিনি বলেন, শুধু যে সংসদ সদস্যদের নিয়ে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন হবে তেমনটা নয়। এখানে আমরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও কাজে লাগাবো। আমাদের ছায়া মন্ত্রিসভা হবে সরকারের মন্ত্রিসভার প্রায় সমান। তাদের সঙ্গে থাকবে সাবেক আমলা, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও ছাত্র প্রতিনিধির একটি টিম। আমরা প্রাথমিক তালিকা করেছি, আবার সেটি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু বাংলাদেশে এটি নতুন ধারনা তাই ব্যাপক যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এজন্য একটু দেরি হচ্ছে। আশাকরি ভালো কিছু হবে।
তবে সরকারকে সহযোগিতার জন্য বিরোধী দলের নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হলেও, এই মন্ত্রিসভা পরিচালনার জন্য সরকার থেকে কোনো সুবিধা নেবে না ছায়া মন্ত্রীরা। বিরোধীদল হিসেবে দলীয় তহবিল থেকে জামায়াতে ইসলামী এর সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে বলেও জানান অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
ছায়া মন্ত্রিসভায় এনসিপিসহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক দলগুলো থাকবে কিনা জানতে চাইলে শিশির মনির বলেন, তাদের আলাপ আলোচনা চলছে, তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মন্ত্রিসভাটি কবে নাগাদ এই গঠন হবে সেটিও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি শিশির মনির। বলেন, ছায়া মন্ত্রীদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, সেই তালিকা নিয়ে ব্যাপক যাচাই-বাছাই করে করা হচ্ছে। যিনি যেখানে অত্যাধিক যোগ্য তাকে সেই মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে। মন্ত্রিসভা হবে সব বয়সীর সমন্বয়ে। এজন্য একটু সময় লাগছে। তবে শিগগিরই বিষয়টি প্রস্তুত করে জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা সরকারি দলের ভুল ত্রুটি পেলেই বিরোধী দল রাজপথের আন্দোলনে নামে, যা কখনো কখনো সংঘাত-সহিংসতায় গড়ায়। তার বিপরীতে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সরকারের মন্ত্রীদের বিপরীতে বিরোধীদল রাখে ছায়া মন্ত্রী। তারা সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর কাজ পর্যবেক্ষণ করে এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেয়। এতে রাজপথের বিরোধিতা কাগজে কলমে গড়ানোর পাশাপাশি বিরোধীদলও প্রস্তুত হয়ে যায় সরকার পরিচালনার জন্য।







