জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল ও তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার দাবিতে করা রিটের শুনানির জন্য ১ মার্চ দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন। রিটে সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জারি করা আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের যে প্রকাশ ঘটেছে, সেটিই সনদের ভিত্তি।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি কমিশন গঠন করে। কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্যের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়।
পরে গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট দল ও জোটগুলো সনদে স্বাক্ষর করে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে।
সনদে বলা হয়, প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন। সে উদ্দেশ্যে গণভোট আয়োজন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
আদেশের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কাজ শেষ হলে পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
৮, ৯ ও ১০ নম্বর ধারায় পরিষদের শপথ, সভার প্রধান নির্বাচন ও কোরামসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। ১১ নম্বর ধারায় দায়মুক্তি এবং ১২ নম্বর ধারায় সংশোধিত সংবিধান অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বলা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জুলাই সনদের কয়েকটি প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দিয়েছে। দলটি সংসদের নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের মতে, নিম্নকক্ষে নির্বাচিত সদস্যসংখ্যার অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন হওয়া উচিত।
এ ছাড়া দলীয় প্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি হতে না পারার প্রস্তাবেও আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বিরোধী দলকে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ কমিটি গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দলটি। তাদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
রিটের শুনানিতে এসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।







