পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশসমূহ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং তাদের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসেছে। তবে সে সময় প্রতিবেদন বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে পুরো প্রতিবেদন না দেখেই কিছু মন্তব্য করেছিলাম, যা আজ সংশোধন করছি। নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন হবে না। যেহেতু দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় স্বাধীন কমিশন কাজ করেছে, তাদের প্রতিবেদনে প্রায় ৭০টি সুপারিশ রয়েছে। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে কিছু আপিল বিভাগ পর্যন্ত গিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং অন্যান্য সুপারিশ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস সদর দপ্তর রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ বহু মানুষ নিহত হন। ঘটনাটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত ছিল বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তারাই দেশকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। পিলখানার ঘটনা ছিল সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি অপচেষ্টা।”
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
শহীদ পরিবার ও জাতিকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







