শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার ওপর আজারবাইজান সরকারের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দেশটির দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে ।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম লন্ডনের হল্যান্ড পার্ক এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীরা হিজাব পরা মুসলিম নারী ও ছাত্রীদের প্রতি সংহতি জানান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
ফিলিস্তিনের পক্ষে শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস অ্যাক্টিভিজম ফর প্যালেস্টাইন (এএসএপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। আয়োজকেরা বলেন, হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছাত্রীদের পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোনো নারীকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা কিংবা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য করা উচিত নয়।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন ইসলামি বক্তা ফাদেল সোলাইমানসহ কয়েকজন অধিকারকর্মী। হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফাদেল সোলাইমান বলেন, এটি ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। কোনো মুসলিম এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধিতা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এএসএপির সভাপতি নুসাইবা মোহাম্মদ, শিক্ষার্থী ওসামা ঘানেমসহ অন্য বক্তারাও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেন। তারা ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নারীদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করে—এমন বিধিনিষেধ আরোপ না করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বিক্ষোভে বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির মানুষ অংশ নেন। তাদের বক্তব্য, একজন নারী হিজাব পরবেন কি পরবেন না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নিজের। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের জবরদস্তি বা অযাচিত হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, নারীর স্বাধীনতার অর্থ তাকে হিজাব পরতে বাধ্য করা নয়, আবার হিজাব পরা থেকে বিরত রাখাও নয়। বরং নিজের পোশাক ও ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সম্মান জানানোই প্রকৃত স্বাধীনতা। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করা হলে ছাত্রীদের সামনে ধর্মীয় বিশ্বাস ও শিক্ষার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, কোনো নারীর শিক্ষার অধিকার ও ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের অধিকার পরস্পরের বিরোধী হওয়া উচিত নয়। হিজাবকে অজুহাত করে কোনো ছাত্রীকে বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার করা যাবে না।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার আজারবাইজানের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন তারা।
সূত্রঃ মিডল ইস্ট মনিটর







