জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা রাজনীতিতে রাজার ছেলে রাজা হবে—এই ধারা পাল্টে দেব ইনশা আল্লাহ। একজন শ্রমিক ভাই কিংবা বোনের সন্তান মেধাবী হলে তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। আমরা চাই, তাদের মধ্য থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক।’
মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। এর আগে ময়মনসিংহ থেকে হেলিকপ্টারে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন জামায়াতের আমির। বেলা সোয়া তিনটায় তিনি সমাবেশস্থলে আসেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘গাজীপুর একটি শিল্প এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এর রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ সিস্টেম, সুপেয় পানির সার্কুলেশন এবং ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই—সবকিছুতেই সমস্যা আছে। অথচ এই গাজীপুর বাংলাদেশের জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখছে। যার যেমন পাওনা, তাকে তেমন মূল্যায়ন করাই হচ্ছে ইনসাফ। আমরা চাই না কেউ বেকার ভাতা নিয়ে অপমানিত হোক। বরং আমরা যুবসমাজকে সুশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষম করে তুলব এবং দেশের নেতৃত্বের ককপিটে বসিয়ে দেব।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘একদল লোক আছে যারা জনগণের উত্থান দেখে দিশাহারা হয়ে মায়েদের গায়েও হাত দিচ্ছে। সাবধান করছি, কোনো মায়ের গায়ে হাত দেব না। যারা মায়েদের সম্মান করতে পারে না, আল্লাহ তাদের অপদস্থ করেন। আমরা জীবনের বিনিময়ে হলেও মায়েদের সম্মান রক্ষা করব।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সকল মালিকের দৃষ্টিভঙ্গি সমান নয়, অনেকে সম্মানের সঙ্গে তাঁর শ্রমিকদের রেখেছেন। তবে এ সংখ্যাটা অনেক কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্মান দেওয়া হয় না। বিশেষ করে মায়েদের সম্মান দেওয়াই হয় না এবং সেখানে বেতনবৈষম্য আছে। পুরুষের একধরনের আর মহিলাদের জন্য আরেক ধরনের। যদিও কাজ কিন্তু সমান। আমরা এই সমস্ত বৈষম্য দূর করে ফেলব ইনশা আল্লাহ।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘গর্ভবতী অবস্থা থেকে শুরু করে বাচ্চার আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত মায়েরা দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন এবং বাকি তিন ঘণ্টা বাচ্চাকে সময় দেবেন, যা বাচ্চার অধিকার। অনেকে বলতে পারেন, এতে তাঁদের আয় কমে যাবে কি না; অবশ্যই কমবে না। কারণ, বাকি তিন ঘণ্টার স্যালারি সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করবে। একটি সুস্থ মা এবং সুস্থ শিশু আগামী দিনের সুস্থ সমাজের জন্য এই সম্মানটুকু তাঁদের দিতেই হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক মা আট ঘণ্টা অবুঝ বাচ্চাকে একা রেখে কাজ করতে পারেন না বলে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু আমরা চাই, মায়েরা চাকরিতেও থাকবেন, আবার বুকের সন্তানকেও জড়িয়ে ধরবেন। শুধু তাই না, শিল্প এলাকায় আমরা সংখ্যা নির্ধারণ করে দেব যে নির্দিষ্টসংখ্যক নারী শ্রমিক থাকলে সেখানে অবশ্যই তাঁদের বাচ্চাদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে। যেখানে কাজের ফাঁকে আধ ঘণ্টা গিয়ে তাঁরা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবেন এবং খবর নিতে পারবেন।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘গাজীপুরের সাতটি দাবি আমার কাছে দেওয়া হয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাসসহ যাবতীয় সমস্যার সমাধান করব ইনশা আল্লাহ। অনেকে বলতে পারেন এত টাকা কোথায় পাবেন; টাকা আছে ওই চোরদের কাছে, যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ইনশা আল্লাহ আল্লাহ সুযোগ দিলে ওদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করব। আমরা নিজেদের ভাগ্য বদলের জন্য নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য উন্নয়ন করব।’
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জেলা জামায়াতের আমির জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী সাবেক সচিব শাহ আলম বকশী, গাজীপুর-২ আসনের এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খান, গাজীপুর-৩ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এহসানুল হক, গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, গাজীপুর-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী খায়রুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।







