আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বিষয়টি জানানো হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।ভোট গণনায় দেরি হওয়ার সম্ভাব্য কারণ জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এখানে শুধুমাত্র তো নির্বাচন হচ্ছে না, সঙ্গে একটা গণভোট হচ্ছে। ফলে দুটা ভোট গণনাই একসঙ্গে শুরু হবে। এর সঙ্গে আছে পোস্টাল ব্যালট। এ জন্য কিছুক্ষেত্রে ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে। অনেক সময় ভোট গণনা দেরি হলে অনেক গুজব তৈরি হয়। সেজন্য আগেভাগেই সাধারণ মানুষকে জানিয়ে রাখতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রে কোনো ইন্সিডেন্ট হলে ওটাকে ঘিরে অপতথ্য ছড়ানো হতে পারে। এগুলোকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, এটা নিয়ে আজ বৈঠকে কথা হয়েছে।
শফিকুল আলম আরও বলেন, এ বছর অনেক কিছু নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাচ্ছি যে, খুব ভালোভাবে ভোটগণনা হোক, সেক্ষেত্রে কিছু বিলম্ব হতে পারে ভোট গণনায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) মধ্যরাত থেকেই ব্যালট পেপার ছাপা শুরু হবে।
নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৫ জন করে সদস্য থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে সাড়ে ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা। এবারের নির্বাচনে মাঠে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া এক লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন থাকছেন নির্বাচনে। নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিএনসিসি, ৫০টি ডগ স্কোয়াড ও ৫০০ ড্রোন থাকবে।
প্রেস সচিব জানান, ভোট গ্রহণের আগে চার দিন ও ভোট গ্রহণের দিন এবং ভোট গ্রহণের পরে দুই দিন অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বমোট সাত দিনের জন্য ৩০০টি আসনে ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবাহিনী থেকে হেলিকপ্টারও প্রস্তুত থাকবে। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩৬০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। নির্বাচনে থাকবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি বুথ।
শফিকুল আলম বলেন, সভায় জানানো হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ৫৯ জন রিটার্নিং অফিসার থাকবেন এবং প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা– এটা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনার জন্য রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক রিটার্নিং অফিসার থাকবেন ৬৪ জন। আরও দুই জন বিভাগীয় কমিশনার থাকবেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসার সব মিলে থাকবেন ৫৯৮ জন। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকছেন ৪৯৫ জন। উপজেলা নির্বাচন অফিসার বা থানা নির্বাচন অফিসার থাকছেন ৬৮ জন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা থাকছেন ১১ জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঁচ জন, ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার চার জন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাজস্ব জেলা পর্যায়ের প্রশাসকের কার্যালয়ে চার জন আরও বাকি বেশ কিছু জন আছেন।







