নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশ গুলশানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকার কথা থাকলেও প্রশাসন ও পুলিশ এখন গুলশানের আন্ডারে কাজ করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
লাইভ বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আচরণ দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। আইন সবার জন্য সমান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ করা হচ্ছে ব্যক্তি ও দলভেদে। একই কারণে একই রাজনৈতিক দলের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হলেও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আদৌ সম্ভব কি না—তা নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হচ্ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রশাসন ও পুলিশ থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের অস্তিত্বই চোখে পড়ছে না। প্রশাসন ও পুলিশ গুলশানের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে যারা রাজপথে আন্দোলন করেছেন, হরতাল সফল করতে শ্রম দিয়েছেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন—সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের কীভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। তাদের বিএনপি থেকে ‘মাইনাস’ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর যেসব গণমাধ্যম বিএনপিকে আগুনসন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেই সব গণমাধ্যমের মালিকদের যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়, তখন বিষয়টি সাধারণ নেতাকর্মীদের জন্য প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিষয়টি তিনি কীভাবে নেবেন, সেটি বড় কথা নয়; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থাকা নেতাকর্মীরা এটি কীভাবে নেবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তারেক জিয়াকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত দেড় দশকে যেসব ব্যবসায়ী, মিডিয়া ও প্রশাসনের লোকজন তারেক জিয়াকে ‘মাফিয়া’ বানানোর অপচেষ্টা করেছে, তারাই এখন বিএনপির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এভাবেই ফ্যাসিবাদের পুনরুৎপাদন ঘটে। তিনি বলেন, আমরা চাই না তারেক জিয়া প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও মিডিয়ার এই নেক্সাসের মধ্যে পড়ে যান।







