মাগুরা-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন।
তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ২১ এপ্রিল পদ হারান। এরপর থেকে তিনি বেকার হিসেবে অবস্থান করছেন।
নির্বাচনে অংশ নিতে মাগুরা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করেছেন হলফনামা। সেখানে পেশায় নিজেকে বেকার উল্লেখ করা মোয়াজ্জেম হোসেনের নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
তার কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই এবং দেশে কিংবা বিদেশে কোনো আয়ের উৎসও উল্লেখ নেই।
তবে মোয়াজ্জেম নগদ অর্থের পুরো টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন বলেও জানিয়েছেন হলফনামায়। এছাড়া নির্বাচনে খরচ নির্বাহে ব্যবসায়ী ভগ্নিপতি ইমামুল লস্কার ৫ লাখ, বড় ভাই রিয়াজুল ইসলাম ৫ লাখ ও মামা মো. মারুফ হোসেন দেবেন ৭ লাখ।
মোয়াজ্জেম হোসেনের দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্রসহ মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তাদের কোনো দেনা বা ব্যাংক-ঋণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এসব সম্পদের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন মাত্র ৩০২ টাকা।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজার মণ্ডলের ছেলে মোয়াজ্জেম বর্তমানে স্ত্রী মারিয়া ফেরদৌসী মনিরাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার শ্যামলীর ‘নবনীড়’ সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী গৃহিণী বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে উপদেষ্টার এপিএস থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২২ এপ্রিল যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার এপিএস থেকে পদত্যাগ করেন মোয়াজ্জেম।







