আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষ নেতৃত্ব। এই অনিশ্চয়তার কারণেই একের পর এক প্রার্থী ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত কতটি আসন ছাড় দেবে—এ নিয়ে চলমান দ্বিধা ও সংশয় দলের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলছে এবং কার্যক্রমে লক্ষ করা যাচ্ছে স্থবিরতা।
দলের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ১৫টি আসনে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি। বিএনপি সময় চাওয়ায় এনসিপির নেতৃত্বের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। এই অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেই এনসিপি নতুন করে জামায়াতের সঙ্গেও আলোচনায় বসেছে। দলটির সর্বশেষ সাধারণ সভায় বিএনপিকে চাপের মুখে রাখতে জামায়াতের সাথে জোটে যাওয়ার প্রসঙ্গও আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে তারা বিএনপিকে বার্তা দিতে চাইছে, চাওয়া–পাওয়া না মিললে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পথেও যেতে পারে।
দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় প্রভাব পড়েছে এনসিপির নির্বাচনী প্রস্তুতিতেও। ১৫ নভেম্বর প্রার্থীর প্রথম দফা তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা করতে পারেনি। পরবর্তীতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময়সীমা ১৩ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০ নভেম্বর করা হয়। সাক্ষাৎকারের সময়ও পিছিয়ে ২১–২২ নভেম্বর থেকে ২৩–২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ, প্রার্থী ঘোষণায় এই বিলম্বে তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন এবং জনগণের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দিতে পারছেন না। নির্বাচনের তফসিল আগামী মাসের শুরুতেই ঘোষণা হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি এনসিপি।
এনসিপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, “এভাবে অনিশ্চয়তায় থাকলে নির্বাচনী মাঠ থেকে আমাদের ছিটকে পড়তে হবে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব মাঠে যেতে চাই, মানুষের সাথে কথা বলতে চাই।”
প্রস্তাবিত ১৫ আসনের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-১১ থেকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রংপুর-৪ থেকে সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ থেকে মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ থেকে মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্জিস আলম, ঢাকা-১৮ থেকে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-৯ থেকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, তাসনিম জারার স্বামী যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, রাজবাড়ী-১,নোয়াখালী-৭ থেকে সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ ও যুগ্ম আহবায়ক মনিরা শারমিন নাওগাঁ-৫।
এ ছাড়া দলের ভেতরে সাবেক শিবিরপন্থী অংশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুজন সাবেক শিবির নেতার জন্য বিশেষভাবে আসন দাবি করেছে এনসিপি। তারা হলেন—নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে সাবেক ঢাবি শিবির নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং পটুয়াখালী–২ আসনে ঢাবি শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।
এর বাহিরে বামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোলা -১ থেকে সামান্তা শারমিন, চট্টগ্রাম-১৬ থেকে মীর আরশাদুল হক, আলেমদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে আশরাফ উদ্দীন মাহাদী নাম আছে এই তালিকায়। প্রবাসীদের মধ্যে থেকে সিলেট-১ এহতেশামুল হক।
এছাড়াও ঢাকা-১০ থেকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও লক্ষ্মীপুর-১ থেকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নাম রয়েছে।
এছাড়াও নির্বাচনে দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন সাবেক ছাত্রশক্তি কোরামের ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের, জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রিফাত রশিদ ও এনসিপি নেতা মাহিন সরকার।







