জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা শাখার নবঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় ধরনের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। ৪১ সদস্যের ওই কমিটি থেকে একযোগে ২৩ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রথম পদত্যাগকারী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত।
এর আগের রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে একে ২৩ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সূত্র জানায়, কমিটি ঘোষণার পর প্রথমেই পদত্যাগ করেন ইয়াছিন আরাফাত। তার পরপরই যুগ্ম সদস্য সচিব–১ ব্যতীত অন্য সব যুগ্ম সদস্য সচিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদধারীও পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারীদের অভিযোগ, তৃণমূলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রভাব ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
একাধিক পদত্যাগকারী জানান, তারা সংগঠনের প্রতি অনুগত থাকলেও “অন্যায় ও পক্ষপাতমূলক কমিটিতে থেকে রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপস করা সম্ভব নয়।”
জানা গেছে, পদত্যাগকারীদের মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতারাও রয়েছেন। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জেলা পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ছিলাম, আজ নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কেন্দ্রীয় নেতারা পছন্দের মানুষ দিয়ে কমিটি করেছেন—তাই পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। ৪১ সদস্যের কমিটি থেকে ২৩ জন পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারাও রয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, “আমরা খুব শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে এ কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব। এটি আমাদের প্রতিবাদের অংশ।”
এদিকে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “কমিটি গঠনের আগে ভাইভা নেওয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকায় সেটি প্রতিফলিত হয়নি। তৃণমূলের ক্ষোভ সম্পর্কে আমরা অবগত আছি; বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে।”







