পাহাড়ে অশান্তির নৈপথ্যে কারিগর মাইকেল চাকমা!

Post Image

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির নেপথ্যে উঠে এসেছে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপল’স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)–এর শীর্ষস্থানীয় নেতা মাইকেল চাকমার নাম। সংগঠনের দ্বিতীয় শীর্ষ (সেকেন্ড ইন কমান্ড) হিসেবে পরিচিত এই নেতা পাহাড়ে চাঁদাবাজি, সশস্ত্র তৎপরতা ও উসকানিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে অশান্তি ছড়ানোর মূল কারিগর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।


পার্বত্য শান্তি চুক্তিকে ‘বেঈমানি’ আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী নানা কর্মসূচিতে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে।  অভিযোগ রয়েছে পার্বত্যাঞ্চলে হত্যা মামলাসহ ১১ মামলার আসামি হয়েও তিনি বীরদর্পে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এমনকি পাহাড়ে চাঁদাবাজি থেকে আসা অর্থ দিয়ে অস্ত্র কিনে পাহাড়কে অস্থির করে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে কথিত ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তার সবই হয়েছে- এই মাইকেল চাকমার পরিকল্পনায়।


গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দায়ের। তার নেতৃত্বে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নিয়মিত চাঁদাবাজি, উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি ও স্থানীয় জনগণের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।


মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাসংক্রান্ত তথ্যাদি :  অনুসন্ধানে ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে। যদিও স্থানীয় সূত্র বলছে মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে ২০টিরও অধিক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ৩০ অক্টোবর রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু থানায় মো. দুলাল উদ্দিনের করা (মামলা নং-০৪) মামলার ১ নম্বর আসামি মাইকেল চাকমা এবং তার সহযোগীরা মিলে বাদি এবং অন্য জেলেদের বেদম মারধর করে সাথে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং নিয়মিত হারে চাঁদা দেয়ার জন্য হুমকি দেয়। পরবর্তীতে, সেনা অভিযান পরিচালনা করে মাইকেল চাকমাকে অস্ত্র এবং গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করা হয়।


২০১৮ সালে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু থানায় রঞ্জন চাকমাকে (২৭) হত্যা করা হয়। ওই মামলাটি তার ভাই কালাবী চাকমা ১৮ জুন (এফআইআর নং ১) দায়ের করেন। ওই মামলায় মাইকেল চাকমা ১৮ নম্বর আসামি। রঞ্জন চাকমাকে দোকান থেকে ফেরার পথে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।


২০০৭ সালে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু থানার অন্তর্গত ভাইবোনছড়ায় খুন, চাঁদাবাজি এবং মারধরের ঘটনার তদন্ত অভিযানে আসামি মাইকেল চাকমাকে একটি দেশীয় অস্ত্র ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়। ওই মামলার বাদি এএসআই মো: শরিফুল আলম এবং মামলা নং-৫। পরবর্তীতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং আসামিদের থানা হেফাজতে নেয়া হয়।


২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি থানায় নিরঞ্জন চাকমাসহ আরো দুইজনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হন মাইকেল চাকমা। মামলাটি নিরঞ্জন চাকমার স্ত্রী মিনা ঢাকমা দায়ের করেন। (মামলা নং-১)। ওই বছরের ২১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে তিনজন ব্যক্তিসহ মোট পাঁচজনকে ইউপিডিএফ ধরে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তিনজনের গুলিবিদ্ধ লাশ ছোট তারাবুনিয়া এলাকায় পাওয়া যায়। বাকি দু’জন অপহৃত অবস্থায় ছিলেন। ওই মামলার ১ নম্বর আসামি মাইকেল চাকমা।


২০১৮ সালে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর থানায় শক্তিমান চাকমা (৫৫) হত্যা মামলাটি তার একান্ত সহকারী রূপম দেওয়ান করেন। (মামলা নং-২) মামলায় মাইকেল চাকমাকে ৩৭ নম্বর আসামি করা হয়। ওই সময় শক্তিমান চাকমাকে মোটরসাইকেলে অফিসে যাওয়ার সময় এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করা হয়।


২০১৮ সালে নানিয়ারচর থানায় তপন জ্যোতি চাকমা (বর্মা) এবং তার সহযোগীদের হত্যা করা হয়। ৮ মে ওই মামলাটি নীতিপূর্ণ প্রকাশ অচীন চাকমা বাদি হয়ে দায়ের করেন। (মামলা নং ০৩/১১) দায়ের করা মামলায় মাইকেল চাকমা ৩১ নম্বর আসামি। নানিয়ারচর উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণের নিমিত্তে তপন জ্যোতি চাকমা (বর্মা) তার সহযোগীদের নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িবহরে ইউপিডিএফ (মূল) সশস্ত্র হামলা করে তাদের সদলবলে হত্যা করে।


২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সিএমপির পাহাড়তলী থানায় একটি মামলার আসামি মাইকেল চাকমা। ওই মামলা নম্বর-১০। মামলার এজাহারে অভিযুক্ত আসামি মাইকেল চাকমা। তার কাছ থেকে ১৯০ পিস ইয়াবা অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রাখা হয়। ২০১১ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি সিএমপির পাহাড়তলী থানার এফআইআর নং-৯/২৬। এই মামলায়ও আসামি মাইকেল চাকমা। মামলায় উল্লেখ করা হয়, দু’টি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ অবৈধভাবে নিজ দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।



২০১৮ সালে ১৮ জুনে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি থানায় সুরেন বিকাশ চাকমা (৫৫) হত্যা মামলাটি তার স্ত্রী বাসন্তী চাকমা এবং চাচাতো ভাই অনিল বিকাশ চাকমা। (এফআইআর নং-৪) দায়ের করেন।

মাইকেল চাকমা এই মামলায় চার নম্বর আসামি। সুরেন বিকাশ চাকমাকে জেএসএস (সংস্কার) সন্দেহে ঘর থেকে ধাওয়া করে রূপকারী বিলের পাশে ছড়ায় নিয়ে ইউপিডিএফ (মূল) কর্তৃক গুলি করে এবং কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।


২০১৮ সালের ২৯ জুলাইয়ে করা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি থানায় বন কুসুম চাকমাকে (৪০) হত্যা মামলাটির আসামি মাইকেল চাকমা। মামলায় তাকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে। বন কুসুম চাকমার ভাতিজা নিয়ন চাকমা বাদি হয়ে মামলাটি করেন। (এফআইআর নং-১)। মামলায় উল্লেখ করা হয়, বন কুসুম চাকমা জমিতে চাষ করা অবস্থায় জেএসএস (সংস্কার) সন্দেহে, ইউপিডিএফ (মূল) কর্তৃক মাথায় ও শরীরে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০১৮ সালের ২৪ আগস্ট রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি থানায় মিশন চাকমা (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাইকেল চাকমা জড়িত থাকায় তাকে তিন নম্বর আসামি করা হয়।


মামলাটি দায়ের করেন নিহত মিশন চাকমার চাচাতো ভাই চয়ন চাকমা। (এফআইআর নং-৩) এফআইআরে উল্লেখ করা হয়, মিশন চাকমা দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে জেএসএস (সংস্কার) সন্দেহে, ইউপিডিএফ (মূল) কর্তৃক অস্ত্রের বাট, গাছের ডাল দিয়ে মাথা, ঘাড় এবং শরীরে স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে ধানী জমির পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।


উল্লেখ্য, মাইকেল চাকমা আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে মতবিরোধের ফলে গুমের শিকার হন। পরবর্তীতে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি ছাড়া পান। গুমের বিষয়কে পুঁজি করে দেশবাসীর সহমর্মিতাকে কাজে লাগিয়ে আবার ইউপিডিএফের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে লিপ্ত রয়েছেন এবং বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া ও চ্যানেলে নিজেকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করে সুকৌশলে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হয়েছেন। যা খাগড়াছড়ি এবং গুইমারার ঘটনায় তার মিথ্যা বয়ান এবং আদিবাসী বিষয়ে উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য এই বিষয়টি কে প্রমাণ করে।

এই বিভাগের আরও খবর

জাতীয়

সর্বশেষ খবর

বঙ্গোপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নৌবাহিনীর বাৎসরিক মহড়া সমাপ্ত

রাজনীতি এখন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে: বদিউল আলম

তারেক রহমান ফিরতে চাইলে একদিনের মধ্যে ট্রাভেল পাস পাবেন : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

সচিবালয়ের ৯ তলায় আগুন

কালো টাকা-লুটের অস্ত্র নির্বাচনের জন্য হুমকি হতে পারে বলছেন বিশ্লেষকরা

ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি আজ

DDS-এর সহযোগিতায় প্রথমবারের মত পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিতর্ক উৎসব আয়োজন করছে ডিবেট বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার লাগানো কাঁঠালিচাঁপার গাছে হাসিনার কোপ

সর্বাধিক পঠিত

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সুখবর দিলেন পে কমিশনের চেয়ারম্যান

১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল

বিপুল জামিন দেয়ায় ৩ বিচারপতির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধান বিচারপতি

আলী রীয়াজকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ

শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়াল সরকার

‘দুদককে চাপ প্রয়োগ করলে তালিকা প্রকাশ করা হবে’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার

রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির